অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:০১ এএম
আগামী ২০৩৯ সালে একটি অত্যন্ত বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। ওই একটি মাত্র গ্রেগরিয়ান বর্ষেই তিনটি ঈদ ও দুটি পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের প্রখ্যাত জলবায়ু ও জ্যোতির্বিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডক্টর আবদুল্লাহ আল মিসনাদের পর্যালোচনার বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। হিজরি চান্দ্র ক্যালেন্ডার প্রতি বছর প্রচলিত গ্রেগরিয়ান সৌর ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে যায়। এই দিনগত পার্থক্যের ধারাবাহিকতায় ২০৩৯ সালে এমন ব্যতিক্রমী সমন্বয় ঘটবে।
বিশেষজ্ঞের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের শুরুতেই প্রথম ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি, যা হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজ, পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর মুসলিম উম্মাহ ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। এরপর হিজরি বর্ষপরিক্রমা নিজস্ব চক্র পূর্ণ করবে। ফলে একই ইংরেজি বছরের শেষের দিকে দ্বিতীয়বারের মতো পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৬ ডিসেম্বর, যা হিজরি ১৪৬১ সনের ১০ জিলহজ, উদযাপিত হবে বছরের দ্বিতীয় ঈদুল আজহা।
এর মধ্য দিয়ে একই গ্রেগরিয়ান বর্ষে দুইবার হজ এবং দুইবার ঈদুল আজহা উদযাপনের বিরল ইতিহাস রচিত হবে। একই সাথে দুটি হজ মৌসুমের আগেই পৃথকভাবে পালিত হবে পবিত্র আরাফার দিন, যে দিনটিতে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। এই দুটি ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী সময়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আরেকটি ঈদ উদযাপনের সুযোগ পাবেন। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সম্ভাব্য হিসাব নির্দেশ করছে যে, ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট বছরের পরিসরে দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর মিলিয়ে মোট তিনটি ঈদ উদযাপিত হবে।
চান্দ্র বর্ষপঞ্জির এই এগিয়ে আসার প্রভাব শুধু হজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং পবিত্র রমজান মাসেও এর প্রতিফলন ঘটবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ২০৩০ সালে একই গ্রেগরিয়ান বছরে মুসলমানরা দুইবার সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস পাবেন। সে বছর প্রথমবার জানুয়ারিতে এবং দ্বিতীয়বার ডিসেম্বর মাসে রমজান মাস শুরু হবে। এর আগে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ দীর্ঘ ৩৩ বছরের ব্যবধানে আবারও একই বছরে দুইবার রমজান মাস আবর্তিত হতে যাচ্ছে।
ইসলামি হিজরি বর্ষ পুরোপুরি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল এবং এর বার্ষিক মেয়াদ থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিন। অপরদিকে প্রচলিত গ্রেগরিয়ান বর্ষ সূর্যের পরিক্রমণভিত্তিক সৌর ক্যালেন্ডার, যার দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই দুই বর্ষপঞ্জির মধ্যে বিদ্যমান বার্ষিক ব্যবধানের কারণেই ইসলামি পর্ব ও তারিখগুলো প্রতি বছর সৌর ক্যালেন্ডারে ক্রমাগত এগিয়ে আসে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন