অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:২৮ এএম
মৃত্যুশয্যায় থাকা প্রিয়জনের শুকনো ঠোঁট দেখে অনেকেই আবেগের বশে চামচ বা গ্লাসে করে মুখে পানি খাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু গিলতে না পারলে এই পানি শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে গিয়ে মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।
এ সময় জোর করে পানি দিলে রোগীর কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জীবনের শেষ সময়টায় শরীরের স্বাভাবিক অনেক ক্ষমতাই ধীরে ধীরে কমে আসে। এর মধ্যে খাবার ও পানি নিরাপদে গিলে ফেলার ক্ষমতাও রয়েছে। মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন বদলে যায়। কখনো শ্বাস অগভীর হয়, কখনো অনিয়মিত হয়, আবার শ্বাসের মধ্যে বিরতিও দেখা দিতে পারে। মুখ খোলা রেখে শ্বাস নেওয়ার দৃশ্যও এই পরিবর্তনের অংশ।
মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা মুখ হাঁ করে শ্বাস নেওয়া মানেই সবসময় তীব্র তৃষ্ণা নয়। এ সময় অনেক মানুষের খাবার ও পানি খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়, যা মৃত্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। গিলতে না পারা অবস্থায় মুখে তরল ঢাললে তা পেটে না গিয়ে সোজাসুজি ফুসফুসে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভুল করে ফুসফুসে পানি যাওয়ার ফলে রোগীর মারাত্মক শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে।
যদি ব্যক্তি খুব ঘুমঘুম অবস্থায় থাকেন, গিলতে কষ্ট হয় বা পানি মুখে দেওয়ার পর কাশতে থাকেন, তবে তরল দেওয়া সাথে সাথে বন্ধ করে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে প্রিয়জন সচেতন থাকলে, নিজে পানি চাইলে এবং নিরাপদে গিলতে পারলে চিকিৎসক বা নার্সের পরামর্শ অনুযায়ী অল্প অল্প করে পানি দেওয়া যেতে পারে।
অস্বস্তি দূর করার নিরাপদ উপায় হলো ঠোঁট আর্দ্র রাখা। প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার তুলা বা নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে প্রিয়জনের ঠোঁট একটু ভিজিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলেও এই সামান্য ভেজা ভাবটাই তখন তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। তখন খাবার বা পানি দেওয়ার চেয়ে রোগীর আরাম, ইচ্ছা এবং নিরাপদে গিলতে পারার ক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। চিকিৎসক ও নার্সরা সে অনুযায়ী খাবার, তরল ও মুখের যত্ন নেওয়ার আলাদা পরিকল্পনা করে থাকেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন