অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে কোনো পদক না পেয়ে খালি হাতে ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরে চরম হতাশা নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেছেন লিটন দাসরা। চীনের হাংঝুতে অনুষ্ঠিত আগের আসরে দুটি ব্রোঞ্জ জিতলেও জাপানের আসর থেকে একেবারেই শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ম্যাচ শেষে দলের এমন ভরাডুবি নিয়ে সরাসরি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস।
অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কথা সামনে আনলেও সেটিকে পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাননি তিনি। লিটন সরাসরি জানিয়েছেন, দল হিসেবে তারা অত্যন্ত বাজে ক্রিকেট খেলেছেন। ম্যাচের চিত্র তুলে ধরে অধিনায়ক বলেন, তাদের বোলিংয়ের শুরুটা ভালো ছিল এবং প্রথম আট ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা গেছে। এরপর শ্রীলঙ্কার একজন ব্যাটার কঠিন উইকেটে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেন। প্রতিপক্ষের সেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলাদেশি বোলাররা ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো পথ খুঁজে পাননি। ওই ব্যাটারের অসাধারণ ইনিংসের কারণেই ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই দিক হারায় বাংলাদেশ। লিটন স্পষ্ট করেন, রান তাড়ায় দলের ব্যাটিং কোনোভাবেই লক্ষ্য ছোঁয়ার মতো ছিল না এবং দলের সামগ্রিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত মানের অনেক নিচে ছিল। পদক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, ফাইনাল খেলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দল জাপানে গিয়েছিল। স্বর্ণের লড়াইয়ে পৌঁছাতে না পারার পর অন্তত ব্রোঞ্জ জেতার একটি সুযোগ ছিল, যা দল পুরোপুরি নষ্ট করেছে।
টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্রিকেটারদের অবাধ ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা নিয়ে জনমনে ওঠা সমালোচনার জবাবে সতীর্থদের পক্ষ নেন লিটন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন খেলোয়াড় কি সারা দিন হোটেলের কক্ষে বন্দি হয়ে বসে থাকবে। অ্যাথলেটদের জন্য মানসম্মত খাবারের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষুধা মেটাতে ক্রিকেটারদের বাইরে বের হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনুশীলনের পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে খেলোয়াড়দের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। তবে সুযোগ-সুবিধার এই ঘাটতি শুধু বাংলাদেশের একার ছিল না এবং পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে একে তিনি দেখছেন না।
এদিকে টুর্নামেন্টে নিজের ফর্মহীনতা স্বীকার করলেও নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন লিটন দাস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসরের দুটি ম্যাচেই তিনি নিজে খারাপ খেলেছেন এবং তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স একেবারেই মানসম্মত ছিল না। খেলায় ভালো ও খারাপ সময় আসা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, খারাপ সময়ের কারণে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। কোনোভাবেই তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন