অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী যাত্রীবাহী ফ্লাইটে মাঝ আকাশে হামলা চালিয়ে বিমান বিধ্বস্ত করার চেষ্টার ঘটনায় দায়ী ওমানি সহকারী পাইলটের পরিচয় ও উগ্র মতাদর্শের অতীত প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্ত ওই পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানি পিতা ও সিরীয় মায়ের সন্তান। উগ্রবাদী তৎপরতায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত বছরই তাকে ওমানের রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ওমান এয়ারের পাইলট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এমন চরমপন্থী অতীত থাকা সত্ত্বেও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই পেরিয়ে তিনি কীভাবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের ককপিটে নিযুক্ত হলেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
হামাম আল-হামামির পেশাগত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি টানা সাত বছর ওমান এয়ারে কর্মরত ছিলেন। উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে সেখান থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের জুন মাসে তিনি রয়্যাল এয়ার মারোকে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সেই সংস্থাও ত্যাগ করেন। এরপর মাত্র আট মাস আগে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে সহকারী পাইলট হিসেবে কাজে যোগ দেন।
বুধবার ককপিটের ওই ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামামের মুছে ফেলা অ্যাকাউন্টগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয় বা সরাসরিভাবে দুটি অত্যন্ত উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টগুলো তিনি নিজে তখন প্রকাশ করেছিলেন নাকি আগে থেকেই বিশেষ সময় নির্ধারণ করে রেখেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
প্রথম প্রকাশিত ভিডিওটিতে একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের ককপিট থেকে ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবরের চিত্র দেখা যায়। সেখানে তিনি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানরত ইসরায়েলের এল আল এবং আরকিয়া এয়ারলাইনসের কয়েকটি বিমানের দিকে ক্যামেরা তাক করেছিলেন। ভিডিও ক্লিপটির শেষ অংশে আল-কায়েদার প্রয়াত শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে সিআইএ কর্মকর্তাদের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানো উগ্রপন্থী সদস্য হুমাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবির আলোকচিত্র জুড়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় পোস্টটিতে প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি একটি চিত্রে মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেম—এই তিন পবিত্র স্থানকে একটি আলোর রেখা দিয়ে সংযুক্ত দেখানো হয়। এর আবহসঙ্গীতে যুদ্ধ ও শাহাদাতের আহ্বানে রচিত একটি কাসিদা বাজছিল।
তদন্তকারীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত নজরদারিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির মুছে ফেলা প্রায় তিন হাজার বার্তা পরীক্ষা করে তার চরমপন্থী এবং নারীবিদ্বেষী মনোভাবের বিশদ প্রমাণ মিলেছে। বিভিন্ন বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বিয়ের জন্য তার শর্ত ছিল স্ত্রীকে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল ঢেকে পর্দা করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই চাকরি করা যাবে না। শুরুতে নারীরা রাজি না হলেও তিনি বিমানচালক পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মত পরিবর্তন করতেন বলে দাবি করেন। নারী ও পুরুষের যৌথ কর্মপরিবেশ সমাজকে চরিত্রহীন করে তুলছে বলেও তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্রমাগত বিদ্বেষমূলক মত প্রকাশ করেছিলেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে ওমানের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি নেই। ফলে এমন সংবেদনশীল তেল আবিবগামী একটি ফ্লাইটের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কীভাবে একজন ওমানি নাগরিককে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে তোলপাড় চলছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ, সামরিক বাহিনী এবং দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় পুরো ঘটনাটি যৌথভাবে তদন্ত করছে। বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিবন্ধিত হওয়ায় তাদের অ্যাটর্নি জেনারেল কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের যোগসূত্র খতিয়ে দেখতে পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী মামলা দায়ের করেছেন। সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর সেখানে আটকে থাকা ওই হামলাকারী সহকারী পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও সশরীরে অংশ নিচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন