অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে। কেউ পুনরায় হাঁটার পথ দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন চলাচলের পথ দখল। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাতে চকি, মাচাসহ অস্থায়ী স্থাপনা বসিয়ে মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি সংস্থার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘদিনের দখলকৃত স্থান হিসেবে পরিচিত মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত এলাকা পুরোপুরি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সরাসরি সহযোগিতা করেছেন।
উচ্ছেদ অভিযানের পর সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন তারা দীর্ঘ ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে ওইসব ফুটপাতে স্বাধীনভাবে হাঁটার সুযোগ পাননি। মানুষ এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছে।
দখলমুক্ত হওয়া ফুটপাত আবার দখল হওয়া ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিশেষ যৌথ নজরদারি দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সিটি কর্পোরেশন কর্মী এবং ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যা মিলিয়ে চারবার সংশ্লিষ্ট এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। একইসঙ্গে এলাকায় মাইকিং করে পথচারীদের চলাচলের জায়গায় বসা বন্ধে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ যেসব এলাকায় এখনও দখল রয়ে গেছে, সেখানেও দ্রুত পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আপস না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ফুটপাত উদ্ধারে কাউকে আগে থেকে অবহিত করার বা অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্তে দলের ভেতরে বা বাইরে থাকা দুষ্কৃতিকারীদেরও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
উচ্ছেদ কার্যক্রম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, মশক নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন