অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১১:৪০ এএম
জম্মু-কাশ্মীরের চেনাব নদীর ওপর নির্মিত বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতু এবং আঞ্জি সেতু পেরিয়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এই দুই সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনটি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে।
একে উপত্যকার রেল যোগাযোগে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার এই পরীক্ষামূলক যাত্রা সফলভাবে শেষ হয়। এর মাধ্যমে জম্মু বিভাগের কাটরা-বানিহাল রেলপথে ট্রেনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ কিলোমিটার করা হয়েছে। উত্তর রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১১১ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা-বানিহাল রেলপথে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব শর্ত পূরণের পরই এই গতিসীমা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে কাটরা-সাঙ্গলদান অংশে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার এবং সাঙ্গলদান-বানিহাল অংশে ৭৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের অনুমতি ছিল।
ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনটির সেতু অতিক্রম করার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি এই ঘটনাকে ভারতের প্রকৌশল সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে তুলে ধরেন। চেনাব রেলসেতুটি মূলত জম্মু-কাশ্মীরের রিয়াসি এলাকায় চেনাব নদীর ওপর নির্মিত। নদীর তলদেশ থেকে সেতুটির উচ্চতা ৩৫৯ মিটার এবং এর দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩১৫ মিটার, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল আর্চ ব্রিজ হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে আঞ্জি খাড সেতুটি হলো ভারতের প্রথম কেবল-স্টেড রেলসেতু।
দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির মধ্য দিয়ে নির্মিত কাটরা-বানিহাল অংশটি উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেল সংযোগ প্রকল্পের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ টানেল, গভীর উপত্যকা ও বড় বড় সেতু পেরিয়ে যাওয়া এই রেলপথের মূল লক্ষ্য হলো কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশা, এই গতিসীমা বাড়ানোর ফলে ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ হবে এবং যাত্রার সময় অনেকটাই কমে আসবে।
একই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকায় সাধারণ যাত্রী, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হতে চলেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন