শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,

আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

টেকসই জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবাধিকার রক্ষা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও সবার জন্য সমান আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের সেবায় পরিচালিত করতে একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে। শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্ত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ কাঠামোই মূলত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। দেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি ইতিবাচক এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের একটি নির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, গৃহীত বিভিন্ন নীতিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়গুলো এই কর্মপরিকল্পনার মূল অগ্রাধিকার। সরকার এখন নিছক প্রতিশ্রুতির পর্যায় পেরিয়ে সরাসরি বাস্তবায়নের ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।

নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা আনতে সরকার সামাজিক সুরক্ষা বলয় পুনর্বিন্যাস করছে। এর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং হেলথ কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি বিভিন্ন সহায়তা আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ বা সার্বজনীন পরিচয় কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে এক ছাতার নিচ থেকেই সব ধরনের সরকারি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ এখনও প্রায় ১২ লাখ বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন করা অসম্ভব। সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সমর্থন এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নিলেই চলবে না, সংকটের মূল উৎপাটন করতে হবে। যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হয়েছে, তার স্থায়ী সমাপ্তিও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমাধানের মধ্য দিয়েই হতে হবে।

তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সংলাপে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ থেকে প্রায় দেড় হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। এতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ, মালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুসা মারা এবং মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নীতি-নির্ধারকেরা উপস্থিত রয়েছেন। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচার্স: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন আ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।