শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ১৮ হাজার কোটি টাকা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম

কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ ছাড়াল ১৮ হাজার কোটি টাকা

সরকারের পক্ষ থেকে ঋণ ও সুদ মওকুফের পরও কোনোভাবেই কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ কমানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। কৃষি অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৃষি ঋণ অকৃষি খাতে ব্যবহার, বিতরণের পর অপর্যাপ্ত তদারকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ঝুঁকিগুলোই খেলাপি ঋণ বাড়ার মূল কারণ।

কৃষকদের স্বস্তি দিতে সরকার সম্প্রতি প্রায় সাড়ে চারশো কোটি টাকার ঋণ ও সুদ মওকুফ করেছে। এত বড় সুবিধা দেওয়ার পরও সর্বশেষ অর্থবছরে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ মূলত একটি কাঠামোগত সমস্যা। সরকারি ব্যাংকগুলোর তদারকিতে ঘাটতি রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী একবার ঋণ নেওয়ার পর তা আর পরিশোধ করতে চায় না।

সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে ২৩ শতাংশ বেশি। এটি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এই ঋণের একটি বড় অংশ সরাসরি ব্যাংকের বদলে বেসরকারি সংস্থা বা এনজিওর মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রায় ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি ঋণ এনজিওর মাধ্যমে দেওয়ায় কৃষকের কাঁধে বাড়তি সুদের বোঝা চেপে বসেছে। কৃষকদের যে উদ্দেশ্যে ঋণ দেওয়া হয়, সেটি সেই খাতেই ব্যবহার করতে হবে। ঋণ নেওয়ার পর উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সেই উৎপাদন থেকে প্রাপ্ত আয় উল্লেখযোগ্য হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সময়ে নেওয়া কৃষি ঋণের একটি বড় অংশ অকৃষি বা কৃষি-বহির্ভূত গ্রামীণ খাতে ব্যয় হয়েছে। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে এটি খুব কমই ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই ঋণের একটি বড় অংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ফসল উৎপাদনের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনার নীতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সাধারণ ঋণের মতো ৯০ দিন পার হলেই কৃষি ঋণকে খেলাপি হিসেবে ঘোষণার প্রথাগত নীতি থেকে সরে আসার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। খেলাপি কমাতে ঋণ বিতরণের পর ব্যাংক কর্মকর্তাদের সরাসরি কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।