অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
ভারতের লক্ষ্ণৌতে লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারে বাধা দেওয়ায় নিজের মাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণ। বৃহস্পতিবার নিজেদের ফ্ল্যাটে এই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজেই পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানায়।
নিজেকে নারী হিসেবে দেখতে চেয়েছিল ওই কিশোর। কিন্তু পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। বৃহস্পতিবার যখন মা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তখন তিনি অস্ত্রোপচারের বদলে চিকিৎসা ও মানসিক কাউন্সেলিংয়ের পরামর্শ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভারী লোহার যন্ত্রাংশ দিয়ে মায়ের মাথায় একাধিকবার আঘাত করে ছেলে। ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।
অভিযুক্তের ডায়েরি থেকে হত্যার বিস্তারিত পরিকল্পনা জানতে পেরেছে পুলিশ।
ডায়েরির তথ্য অনুযায়ী, মাকে হত্যার জন্য ভারী লোহার যন্ত্রাংশের পাশাপাশি মরিচের গুঁড়া ও গরম পানি ব্যবহার করেছে সে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে মায়ের মৃতদেহ এবং হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্ত তরুণ সেখানেই অবস্থান করছিল এবং পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিস্তারিত বিবরণ দেয়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক কুমার চৌধুরী জানান চাঞ্চল্যকর এক তথ্য।
হত্যার আগে ওই কিশোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ইন্টারনেটে খোঁজ করেছিল, এ ধরনের অপরাধে তার বয়সীদের কী শাস্তি হয় এবং পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়। এর আগে পরিবার তার জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করলেও সে নিজেকে নারী হিসেবেই দাবি করত। বাবা-মাকে সহ্য করতে না পারায় তার বাবা লক্ষ্ণৌতে তাকে আলাদা বাসা ভাড়া করে দিয়েছিলেন। সেখানে পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতে বারণ থাকলেও মা তার সঙ্গেই থাকতে চাইতেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন