এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রেমের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দিতে গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন নৃত্যশিল্পী ফিরোজ আহমেদ। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রলুব্ধ হয়ে তিনি নিজের হরমোন পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হলেও শেষ পর্যন্ত প্রেমিক বিপ্লব হোসেন তাকে গ্রহণ করেননি। উল্টো ফিরোজের উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে অন্য এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেছেন অভিযুক্ত বিপ্লব।
এই ঘটনায় বর্তমানে বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সর্বস্বান্ত হওয়া ফিরোজ।ভুক্তভোগী ফিরোজের বাড়ি বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের জোত কাদিরপুর গ্রামে।
তিনি সাভার শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির নাচের শিক্ষক এবং `নাচের পুতুল একাডেমি`র পরিচালক। অন্যদিকে অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেন একই উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে বরিশালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।
ফিরোজ জানান, তাদের সম্পর্কের শুরু হয় নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে। দীর্ঘ দেড় যুগের এই পথচলায় তারা ঢাকায় একসঙ্গে বসবাসও করেছেন।ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় ফিরোজ জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার এবং এলাকাবাসী জানতেন। বিপ্লবের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় ফিরোজের উপার্জনেই তাদের সংসার চলত। এমনকি বিপ্লবের ক্যারিয়ার গড়ার পেছনেও ফিরোজের বড় অবদান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত তারা এক ছাদের নিচেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবন কাটিয়েছেন।
এরই মধ্যে বিপ্লব তাকে পূর্ণাঙ্গ নারী হওয়ার প্রস্তাব দেন যাতে তারা সামাজিকভাবে বিয়ে করতে পারেন। প্রেমিকের কথায় অন্ধ বিশ্বাস করে ফিরোজ ভারতের একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেন।ভারতে এক বছরের চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর ফিরোজ জানতে পারেন যে, বিপ্লব তাকে ফেলে অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েক বছরে ফিরোজের নাচের মাধ্যমে উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিপ্লব হাতিয়ে নিয়েছেন।
এই টাকা দিয়ে গ্রামে বাড়ি ও গাড়ি করেছে বিপ্লবের পরিবার। ফিরোজের কাছে ৩০ লাখ টাকা লেনদেনের দালিলিক প্রমাণ থাকলেও এখন পুরো টাকা আত্মসাৎ করতে বিপ্লব প্রশাসনিকভাবে হয়রানি শুরু করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি ফিরোজের বিরুদ্ধে বরিশালের কোতয়ালী মডেল থানায় পাল্টা অভিযোগও করেছেন বিপ্লব।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব হোসেন ফিরোজের সঙ্গে পূর্বের সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ফিরোজ তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
তবে ফিরোজের বক্তব্য, তিনি তার জীবন, পরিচয় এবং কষ্টার্জিত সম্পদ সবই হারিয়েছেন কেবল বিপ্লবের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণে। বর্তমানে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বাঘা ও বরিশাল এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রতারণার বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এই নৃত্যশিল্পী।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন