অক্টোবর ৩, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িবহর। শনিবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে জ্বালানিবাহী লরিবহরটি সফলভাবে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান কঠোর নজরদারিতে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প চত্বরে নেওয়া হয়েছে। এর আগে শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় গাড়িবহরটি সড়কপথে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। বহরের তিনটি বিশেষ লরিতে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম এবং অন্য একটি গাড়িতে প্রয়োজনীয় সহায়ক কারিগরি সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়। এই পরিবহন প্রক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে আসা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা সার্বক্ষণিক গাড়িবহরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সড়কজুড়ে সমন্বিত দায়িত্ব পালন করেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ এয়ার কার্গো বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছিল।
প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রম চালুর জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য দুটি মিলিয়ে সর্বমোট নয়টি চালানে এই পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আনার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সব কটি চালান রূপপুরে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি সময়মতো শেষ হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সফলভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন