অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
তেত্রিশ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর ট্রফি ছুঁয়ে দেখেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি অর্জনের পর নতুন করে সামনে এসেছে আর্জেন্টিনার প্রয়াত কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার দেওয়া এক গোপন ও কৌশলগত পরামর্শের ঘটনা। কয়েক সেকেন্ডের সেই আলাপই যেন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল এই ইংলিশ ফরোয়ার্ডের খেলার ধরন।
ঘটনাটি ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবরের।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল টটেনহাম হটস্পার। ক্লাবটির নিজস্ব নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ চলমান থাকায় তারা লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করছিল। পরদিন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সে সময় লন্ডনে অবস্থান করছিলেন ম্যারাডোনা।
তখন টটেনহামের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন আরেক আর্জেন্টাইন মরিসিও পচেত্তিনো। ১৯৯৩ সালে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজে খেলার সুবাদে ম্যারাডোনার সঙ্গে এক সময় মাঠ ও ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছিলেন তিনি, এমনকি তারা একই কক্ষেও থেকেছেন। সেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রে ম্যাচের ঠিক আগে ওয়েম্বলিতে ম্যারাডোনাকে নিয়ে আসেন পচেত্তিনো। ড্রেসিংরুমের সামনে টটেনহাম অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হুগো লরিস এবং সহ-অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সঙ্গে তিনি কিংবদন্তির পরিচয় করিয়ে দেন। ফুটবলের মহাতারকাকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেইন।
ম্যাচের প্রস্তুতিতে দ্রুত মাঠে নামার তাড়া ছিল, তাই কথা বলার সুযোগ ছিল অতি সামান্য। কিন্তু সেই সংক্ষিপ্ত মুহূর্তেই কেইনকে একটি অমূল্য কৌশলগত পরামর্শ দেন ম্যারাডোনা।
তিনি ইংলিশ স্ট্রাইকারকে বুঝিয়ে বলেন, ফিনিশিংয়ের সময় শটের বৈচিত্র্য ধরে রাখা জরুরি। সবসময় কাছের পোস্টে শট না নিয়ে বলের ওপর কৌণিকভাবে আঘাত করে দূরের পোস্টেও শট নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ম্যারাডোনার যুক্তি ছিল খুবই স্পষ্ট—আধুনিক ফুটবলে গোলরক্ষকরা প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ভিডিও ফুটেজ দেখে নিখুঁত বিশ্লেষণ করেন। একজন স্ট্রাইকার কোন পরিস্থিতিতে সাধারণত কোন কোণে বল পাঠান, তা আগেভাগেই অনুধাবন করার চেষ্টা থাকে কিপারদের। তাই শটে নিয়মিত বৈচিত্র্য না আনলে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের জন্য তা আটকানো সহজ হয়ে যায়।
কিংবদন্তির এই পাঠ সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে প্রয়োগ করে দেখান কেইন। সেদিন লিভারপুলকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টটেনহাম।
ম্যাচের প্রথম ১২ মিনিটের মাথায় দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন কেইন এবং পাশাপাশি সতীর্থ সন হিউং-মিনকে দিয়ে করান দ্বিতীয় গোলটি। হুগো লরিসের দীর্ঘ ক্লিয়ারেন্স বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চতুরতার সাথে তিনি বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সনের উদ্দেশ্যে। পরবর্তীতে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলের দেখাও পান কেইন।
সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর থেকেই গোলমুখে আরও ক্ষুরধার হয়ে ওঠেন কেইন। এরপর তিনি একাধিকবার প্রিমিয়ার লিগ ও বিশ্বকাপের আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট জয় করেন। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে গোলের রেকর্ডে ম্যারাডোনারই স্বদেশি লিওনেল মেসির এক মৌসুমের সর্বকালের সেরা অর্জনের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক সেই গোল উৎসবই এবার হ্যারি কেইনকে এনে দিয়েছে বিশ্বসেরার সোনার ট্রফি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন