অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
টানা তিন বছরের যুদ্ধ ও তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের অভূতপূর্ব উপস্থিতিতে চরম রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার পৌঁছেছে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশে, যা এই নির্দিষ্ট সময়সীমার হিসাবে দেশটির সামগ্রিক নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।
চার মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধিত নাগরিক ভোটকেন্দ্রে আসায় নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও বহু কেন্দ্রে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
ভোটারদের এমন উপচে পড়া চাপ দেখে প্রকাশ্যেই চরম অস্বস্তি ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বিশেষ করে আরব ও বামপন্থী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিপুল মানুষের জমায়েত লক্ষ্য করে নিজের সমর্থকদের অবিলম্বে মাঠে নামার বার্তা দিয়েছেন তিনি। কট্টর সমর্থকদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন, এই অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে তথাকথিত ‘ইহুদি রাষ্ট্র ঝুঁকির মুখে’ পড়েছে। ডানপন্থী ভোটারদের দ্রুত কেন্দ্রে এসে ব্যালট ফেলার তাগিদ দিয়ে বিরোধীরা নানা কায়দায় নির্বাচন ছিনতাই করার চক্রান্ত করছে বলেও সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।
নেতানিয়াহুর এমন বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইলের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শিবির স্পষ্ট জানিয়েছে, নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে নেতানিয়াহু এখন থেকেই নির্বাচনের ফলাফল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা হিসেবে মনগড়া অজুহাত সাজাচ্ছেন।
ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন দল ব্যালট পেপার সরানো এবং বিচ্ছিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে।
তবে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার মতো বড় ধরনের কোনো সমন্বিত জালিয়াতির প্রমাণ মেলেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ একাধিক কেন্দ্রে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং ভোট প্রভাবিত করার অপচেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন