বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬,

আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম

আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোন মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে বন্ধুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নির্মাণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে। নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর ভুক্তভোগী যুবক তারেক মিয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে লাখাই ও নবীগঞ্জ থানা-পুলিশের যৌথ দল উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের শাহ আলমের বাড়ির সামনের সড়কের উত্তর পাশের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌশতপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সাহেল একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে এবং নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে তারেক ও সাহেল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের সুরের রহমানের বাড়িতে আসেন। সেখানে নির্মাণকাজের সময় তারেকের ব্যবহৃত আইফোনটির প্রতি সাহেলের লোভ তৈরি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ অক্টোবর রাতে তারেককে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে অপরাধের আলামত আড়াল করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবার পানিতে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয়।

এদিকে কাজ শেষে তারেক নিজ বাড়িতে ফিরে না আসায় এবং মুঠোফোনে পরিবারের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্বজনদের পক্ষ থেকে নবীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সেই সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও মুঠোফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে অভিযুক্ত সাহেলকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইফোনের লোভেই বন্ধু তারেককে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাহেল।

পরবর্তীতে তার দেখানো স্থান ও তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার রাতে লাখাই ও নবীগঞ্জ থানা-পুলিশ যৌথভাবে ফুলবাড়িয়া গ্রামের ডোবাটিতে তল্লাশি চালিয়ে তারেকের মরদেহটি উদ্ধার করে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।