অক্টোবর ৬, ২০২৬, ১০:৩০ এএম
মামলার তদন্তে গিয়ে ঘুষ গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসাইনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। সম্প্রতি চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে যান সহকারী উপপরিদর্শক ইলিয়াস হোসাইন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে কথা বলার সময় তিনি মন্তব্য করেন, কেউ রটালেই তবে কিছু ঘটে।
তিনি দাবি করেন, তিনি যদি পুলিশের দারোগা হয়ে বলেন তিনি ঘুষ খান না এবং বায়তুল মোকাররমের ইমামের মতো সাধু সাজেন তবে তা মানানসই হবে না। একই সাথে তিনি ঘুষের টাকা দিয়েই পুলিশের পোশাক অর্জন করেছেন এবং ঘুষ খাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পেশায় এসেছেন বলে দাবি করেন। উপস্থিত এক ব্যক্তি ওই বক্তব্যের দৃশ্য ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ওই কথোপকথন প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নজরে এলে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তার এলাকার বড় ভাই এমন পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন ওই সহকারী উপপরিদর্শক।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়াতেন বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মাধবপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাফিউর রহমান জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি নিয়ে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তের কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন