অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
মৌলভীবাজারে বাস আটক, ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। এর ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার কারণে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য বের হওয়া রোগীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দূরপাল্লার সারিবদ্ধ বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো চালক বা সহকারীর দেখা মিলছে না। জেলা সদরের প্রধান টার্মিনাল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ম্যাক্সিসহ সব ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিকল্প বাহনে ভেঙে ভেঙে জেলা শহরে পৌঁছালেও পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার কোনো উপায় পাচ্ছেন না যাত্রীরা। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। কয়েক দিন পরপর পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এমন দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তিতে কোনো কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল অভিযোগ করেন, তাদের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের শেরপুর এলাকায় বারবার আটকে মারধর ও ভাঙচুর চালিয়ে আসছে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের লোকজন। গত ১১ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের তিনটি বাস আটক করে মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, বিরোধের স্থায়ী সমাধান এবং আটকে রাখা বাসগুলো ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত জেলার কোনো সড়কে গণপরিবহন নামবে না। এর আগে একই বিরোধের জেরে শায়েস্তাগঞ্জে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসনের আশ্বাসে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
গত ১২ জুন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপির উপস্থিতিতে পাঁচজন সংসদ সদস্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তা কার্যকর রূপ পায়নি। অন্যদিকে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন দাবি করেন, বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টার মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে তাদের এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ওই হামলায় আহত শ্রমিকদের একজন বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সংক্ষুব্ধ শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখে থানায় মামলা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারস্পরিক দোষারোপ না করে উভয় পক্ষকে এক টেবিলে বসে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় অংশ নিতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন