অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
নামাজের বৈঠকে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করার সঠিক সময় ও পদ্ধতি নিয়ে অনেক মুসল্লির মনেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়। নামাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো বৈঠক, যেখানে একাগ্রতার সাথে তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা হয়। এ সময় তাশাহুদের কোন নির্দিষ্ট অংশে আঙুল উঠাতে হবে, কখন তা আবার নিচু করতে হবে এবং হাতের অন্যান্য আঙুলের অবস্থান কেমন থাকবে, তা জানা প্রতিটি নামাজির জন্য জরুরি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণে তাশাহুদে আঙুলের এই ইশারা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আমল।
হাদিস শরিফে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি যখন নামাজে বসতেন, তখন তিনি দুই হাত দুই হাঁটুর ওপর রাখতেন। এরপর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পাশের আঙুলটি উঠিয়ে তাওহিদের ইশারা করতেন এবং বাঁ হাত বাঁ হাঁটুর ওপর স্বাভাবিকভাবে ছড়িয়ে রাখতেন। সহিহ মুসলিমের ৫৮০ নম্বর হাদিসে এই আমলের বর্ণনা রয়েছে।
হজরত আমের আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের তার পিতার সূত্রে আরেকটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল যখন তাশাহুদের বৈঠকে বসতেন, তখন ডান হাত ডান উরুর ওপর এবং বাঁ হাত বাঁ উরুর ওপর স্থাপন করতেন। এ সময় তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে যুক্ত করে গোলাকার বৃত্ত বানাতেন এবং শাহাদাত আঙুল তুলে ইশারা করতেন। সহিহ মুসলিমের ১৩৩৬ নম্বর এবং সহিহ ইবনে হিব্বানের পঞ্চম খণ্ডের ২৭০ পৃষ্ঠায় এই বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে।
সহিহ মুসলিমের ১৩৩৮ নম্বর হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশাহুদে বসার সময় ডান হাতের আঙুলগুলোকে আরবি ৫৩ সংখ্যার আকৃতিতে গুটিয়ে শাহাদাত আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন।
এই আমলটি কখন এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, সে বিষয়ে ইসলামিক আইনশাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে। ঢাকার আমিনবাজারের জামিয়া কাসিমুল উলুম সালেহপুরের প্রধান মুফতি মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজি এ প্রসঙ্গে জানান, নামাজি যখন মুখে তাওহিদের সাক্ষ্য উচ্চারণ করেন, তখন তার শাহাদাত আঙুলও সেই একই বিশ্বাসের বাস্তব সাক্ষ্য প্রদান করে।
মুফতি ফরায়েজির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাশাহুদ পড়ার সময় মুসল্লি যখন `আশহাদু আল লা ইলাহা` অংশে পৌঁছাবেন, ঠিক তখনই ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা মিলিয়ে একটি গোল বৃত্ত তৈরি করতে হবে। একই সাথে কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল দুটি হাতের তালুর সাথে সম্পূর্ণ যুক্ত রেখে শাহাদাত আঙুলটি ওপরের দিকে উঠিয়ে ইশারা করবেন।
এরপর পাঠের ধারাবাহিকতায় যখন `ইল্লাল্লাহ` বলা শেষ হবে, তখনই শাহাদাত আঙুলটি নিচে নামিয়ে স্বাভাবিক করে নিতে হবে। তবে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার বৃত্তসহ অন্যান্য আঙুলের যে বিশেষ অবস্থান তৈরি হয়েছিল, তা আর না ভেঙে পুরো বৈঠকের শেষ পর্যন্ত একই অবস্থায় ধরে রাখতে হবে।
বৈঠকে পঠিত তাশাহুদের বিশুদ্ধ উচ্চারণ হলো: আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-ত্বায়্যিবাতু; আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ; আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন; আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।
এর সরল অর্থ: সমস্ত মৌখিক ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হোক। শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের ওপর এবং আল্লাহর সমস্ত নেককার বান্দাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রেরিত বান্দা ও রাসুল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন