মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে পঞ্চগড়ের আকাশে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে পঞ্চগড়ের আকাশে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

ছবি: দিনাজপুর টিভি আর্কাইভ

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে পঞ্চগড়ের পরিষ্কার আকাশে, আর বরফে মোড়া এই অপরূপ শৈলচূড়া দেখতে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ায় ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

শরতের বিদায়লগ্নে শীতের আগমনী বার্তার সাথে হিমালয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি খালি চোখেই অবলোকন করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা। রোদের আলো বরফঢাকা পাহাড়চূড়ায় পড়ার সাথে সাথে ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাচ্ছে এর রঙ—কখনো রক্তিম লাল, কখনো গাঢ় কমলা, আবার কখনো ধূসর আভা ধারণ করছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পঞ্চগড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বরফাচ্ছাদিত এই শৃঙ্গের সৌন্দর্য উপভোগ করা গেছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর ওপারে পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র পাহাড়ের সারি যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

তবে বায়ুমণ্ডলে মেঘ আর ঘন কুয়াশার কারণে সবসময় এই শৈলশৃঙ্গ স্পষ্ট দেখা যায় না। আকাশ মেঘমুক্ত ও পরিষ্কার থাকলে ভোরের প্রথম আলো ফোটার সাথে সাথেই পাহাড়টি চোখের সামনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, আবার কিছুক্ষণ পর ভাসমান মেঘের আড়ালে মিলিয়ে যায়।

একই সাথে পঞ্চগড়জুড়ে রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করেছে।

গত দুই দিন ধরে তেঁতুলিয়া অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। সোমবার সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিললেই সীমান্তবর্তী এই জনপদে পর্যটকদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা প্রকৃতি আর হিমেল হাওয়ার অনুভূতি ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো প্রাঙ্গণ, মহানন্দা, করতোয়া, ডাহুক ও ভেরসা নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং গ্রামীণ পথঘাট থেকে এই পর্বতশৃঙ্গ সবচেয়ে সুন্দরভাবে দৃশ্যমান হয়।

পর্যটকেরা বলছেন, অপরূপ এই দৃশ্য দেখতে ভাগ্যের সমর্থনও প্রয়োজন। আকাশে মেঘ জমে থাকলে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও এই শৃঙ্গের দেখা না-ও মিলতে পারে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, প্রতিবছরই শীতের শুরুতে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। এই নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। পর্যটকদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে উপজেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পিকনিক কর্নার নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এবং একটি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং আগত সবার সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।