অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
জোড়া লাগা যমজ দুই শিশুর জন্ম হলেও তাদের আলাদা করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর স্বপ্ন আটকে গেছে পরিবারের চরম আর্থিক অনটনে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ববড়ালী গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর মাসুদ ও সুমি দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া আট মাস বয়সী যমজ কন্যাশিশু ঐহি আক্তার ও মাহি আক্তার পেট থেকে পা পর্যন্ত শারীরিকভাবে অবিচ্ছেদ্য অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া এই দুই শিশুকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই শিশুদের আলাদা করা সম্ভব হতে পারে।
তবে তার জন্য প্রয়োজন একাধিক জটিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দীর্ঘমেয়াদি নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ধারাবাহিক আধুনিক চিকিৎসা। জন্মের তিন মাস পর পুনরায় তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও অর্থ সংকটে তা আর এগোয়নি।
শিশুদের পিতা মাসুদ কৃষিজমিতে দিনমজুরি করে মাসে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করেন।
এই সীমিত আয়ে নিত্যদিনের সংসার চালানোর পাশাপাশি শিশুদের বিশেষ পথ্য, ওষুধ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে তিনি ইতিমধ্যে ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, চিকিৎসকেরা আশার কথা বললেও সেই বিপুল ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা তাঁর নেই, ফলে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মা সুমি জানান, শিশুদের স্বাভাবিকভাবে কোলে তুলে নেওয়াও সম্ভব হয় না। একজন সামান্য নড়াচড়া করলেই অন্যজন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে ওঠে। তাদের ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচ তো দূরের কথা, প্রতিদিনের দুধ কেনার টাকাই পরিবারটি জোগাড় করতে পারছে না।
প্রতিবেশী আলী হোসেন মিজি বলেন, এই পরিবারটিকে রক্ষায় সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও দাতব্য সংস্থাগুলোর সরাসরি পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সরকারিভাবে শিশুদের সুবর্ণ নাগরিক কার্ড ও দুধ কেনার জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের জরুরি অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি দরকার।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল উল্লেখ করেন, জোড়া লাগা যমজের জন্ম একটি অত্যন্ত বিরল শারীরিক ঘটনা। চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরিভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা শুরু না করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক জানান, উপজেলায় নতুন যোগদানের পর তিনি এই পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন