অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া চিতাবাঘটি চব্বিশ ঘণ্টা পার হলেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে ঢাকা ও রংপুরের বন বিভাগের দুটি যৌথ দল প্রাণীটি উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এর আগে রোববার বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে চিতাবাঘের অতর্কিত হামলায় এক নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা বেগম, নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী। তাদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, রোববার বিকেলে আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যাওয়া ছাগল আনতে গিয়েছিলেন শরীফা বেগম। সেখানে একটি চিতাবাঘকে ছাগলটির ওপর আক্রমণ করতে দেখে তিনি উদ্ধারে এগিয়ে গেলে বাঘটি উল্টো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তার চিৎকার শুনে কাছে থাকা নজরুল ইসলাম ও আফছার আলী বাঁচাতে ছুটে এলে তাদেরও আঁচড়ে-কামড়ে রক্তাক্ত করে বাঘটি।
হামলার পর প্রাণীটি পাশের একটি ধানক্ষেতে আত্মগোপন করে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে পুরো ধানক্ষেত ঘিরে অবস্থান নেন। প্রাণীটিকে তাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এলাকাবাসীর ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে চিতাবাঘটি ভারত থেকে বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করেছে।
রোববার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাঘটি ওই ধানক্ষেতের ভেতরেই অবস্থান করছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। সে সময় বিজিবি ও গ্রামবাসী চারদিক সতর্ক পাহারা দিয়ে ঘিরে রাখেন। রাতে বিজিবি সদস্যরা ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে ধানক্ষেতের ভেতরে প্রাণীটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে একপর্যায়ে নজরদারি ফাঁকি দিয়ে সেটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে রংপুর দলের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করে। তবে পুরো এলাকায় দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি চালিয়েও বাঘটির সন্ধান মেলেনি।
গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল হক মনা জানান, বাঘের আক্রমণে আহত তিনজনকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এলাকায় নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় সামাজিক বন কর্মকর্তা নুর ইসলাম জানান, সকাল থেকে ঢাকা ও রংপুরের দল বাঘটিকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশে বাঘের পায়ের ছাপ নিশ্চিতভাবে পাওয়া গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রাণীটি বর্তমানে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় আর নেই। বন বিভাগের উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন