মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,
মেট্রোরেল সম্প্রসারণ

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ অংশের পরীক্ষামূলক চলাচল আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের শুরুতে এই অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরুর পরিকল্পনা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। রাজধানীজুড়ে মেট্রোরেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সম্প্রসারণের এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

বর্তমানে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত নিয়মিত ট্রেন চলাচল করছে। শুধুমাত্র মতিঝিল স্টেশন দিয়েই প্রতিদিন প্রায় এক লাখ মানুষ যাতায়াত করছেন। ফলে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত এই সেবা যুক্ত হলে সামগ্রিক যাত্রীসংখ্যা আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি আগে জানিয়েছিল যে জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক চলাচল এবং এপ্রিলে যাত্রী নিয়ে ট্রেন চালানো হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের কাজের সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কারণে সেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায় থেকে আগামী জুন বা জুলাইয়ে ট্রেন চালুর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। স্টেশনের কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি থাকলেও মূল পরিচালনা শুরু করতে কোনো বড় ধরনের বাধা তৈরি হবে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশের পুরো উড়ালপথ বা ভায়াডাক্ট নির্মাণের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে এই পথে রেললাইন বসানোর কাজ চলছে এবং দুই পাশে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এসব খুঁটির ওপর ওভারহেড ক্যাটেনারি তার টানার কাজ পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।

নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্র্যাকশনে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

কমলাপুর স্টেশনে লিফট সংযোজন, স্বয়ংক্রিয় সংকেতব্যবস্থা ও ভাড়া আদায়ের গেট স্থাপন, মেঝের টাইলস লাগানো, শৌচাগার তৈরি এবং পানির পাম্প বসানোর কাজ এখনও বাকি রয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতিসহ বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কারিগরি সরঞ্জাম জাপান থেকে পৌঁছাতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, যা সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের একটি কারণ।

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পটিকে এমআরটি লাইন-ছয় হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানান, মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের সার্বিক অবকাঠামো নির্মাণের অগ্রগতি বর্তমানে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আনুষ্ঠানিক মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগেই পুরো কাজ শেষ করে জুনের শেষ অথবা জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী চলাচল উন্মুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।