অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বি-২ ধাপের ফিজিক্যাল টেস্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এসব পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলসংবলিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বায়েরার চূড়ান্ত সম্মতি ও অনুমোদন পাওয়া গেলেই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক স্তর ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ ধাপে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করবে। এই ধাপে ধারাবাহিক ও নিবিড় পরীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতির সামগ্রিক কার্যক্ষমতা নিখুঁতভাবে যাচাই করা হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, স্টেজ-সি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও প্রকৌশল ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। মূলত কেন্দ্রটির নিরাপদ, স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য পরিচালনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা মূল্যায়ন করাই এই বিশেষ ধাপের প্রধান লক্ষ্য।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, এই পর্বে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কুলিং ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক নেটওয়ার্ক, কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সামগ্রিক সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা যৌথভাবে পরীক্ষা করা হবে।
এসব জটিল ব্যবস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ড. জাহেদুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, রিঅ্যাক্টরের শক্তি বৃদ্ধির সমান্তরালে কেন্দ্রের টারবাইনের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা স্বাভাবিক পরিচালন পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে কাজ করছে কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চচাপ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সমন্বিত প্রতিক্রিয়া খতিয়ে দেখা হবে।
এই স্টেজ-সি ধাপের অন্যতম প্রধান মাইলফলক হলো কেন্দ্রের প্রধান জেনারেটরকে সরাসরি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা।
গ্রিডের কম্পাঙ্ক ও চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কেন্দ্রটি কতটা স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, তা এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের নিজস্ব পরিচালন ব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা রক্ষাকবচের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে।
নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়া, কমিশনিং-সংক্রান্ত যাবতীয় প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ছাড়পত্র সাপেক্ষে ইউনিটটিকে পরবর্তী স্তর ‘পাইলট অপারেশন’ বা পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক পরিচালনা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তবে প্রকৌশলীরা স্পষ্ট করেছেন যে, স্টেজ-সি ধাপে প্রবেশ করা, জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা এবং আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাইলফলক। বাণিজ্যিক উৎপাদনে পদার্পণ করার আগে দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি পরীক্ষা, কমিশনিং কার্যক্রমের সব ধাপ এবং আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরমাণু নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কঠোর শর্তাবলি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন