সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি নিরাপত্তার অর্জন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক পেশাগত মানে উন্নীত করতে এই বৃহৎ প্রকল্প অনন্য ভূমিকা রাখছে।

রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা বায়েরার উদ্যোগে আয়োজিত বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জানান, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যালিটি গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। কারিগরি প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এগিয়ে চলায় শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে কেন্দ্রটি দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় কার্যকর অবদান রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।

শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই শেষ কথা নয়, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজের পাশাপাশি এর সার্বক্ষণিক নিরাপদ পরিচালনা, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ এবং কারিগরি সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সচিব স্পষ্ট করেন যে কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিচালন—উভয় স্তরেই সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা অপরিহার্য। কেবল সর্বাধুনিক যন্ত্র বা উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে সামগ্রিক সুরক্ষা রক্ষা করা সম্ভব নয়; বরং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও মানবসম্পদকে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, পেশাগত নৈপুণ্য এবং মানসিক সচেতনতার মাধ্যমে বাস্তবমুখী করে প্রস্তুত করতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর বিশেষজ্ঞদের গভীর জ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে আত্মস্থ করার পরামর্শ দেন তিনি। এই উদ্যোগ জাতীয় পারমাণবিক অবকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই পারমাণবিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কার্যকর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশীয় বিজ্ঞানীদের কৃতিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক নীতি-নির্ধারণী ফোরামে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশীদারিত্ব ও অবস্থান সুসংহত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, অংশগ্রহণকারী নবীন কর্মকর্তারা এই নিবিড় কর্মসূচি থেকে অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশে নিরাপদ, সুরক্ষিত ও আধুনিক পারমাণবিক শক্তি কাঠামো বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

সভাপতির বক্তব্যে বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের পারমাণবিক খাতের দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে অব্যাহত কারিগরি সহযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

চার সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি আইএইএ, বায়েরা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বা বায়েক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে।

কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার চারজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ—রাহিলা হাম্মাদ, বেনোইট গ্যাব্রিয়েল, মেহমেত তোম্বাকোগল ও বারিস গুরনারের পাশাপাশি দেশীয় বরেণ্য বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদেরা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছেন।

এতে বায়েরা, বায়েক এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীসহ মোট ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উদ্বোধনী সেশনে অংশ নেন। রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সটি আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হবে।