অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চার শতাধিক ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে এসব স্থাপনার ছাদ এবং অধিদপ্তরের আওতাধীন অব্যবহৃত খালি জমিতে ধাপে ধাপে মোট পাঁচ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যয় হ্রাস করা, জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ সীমিত রেখে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, সরকারের নীতিগত নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে নিজস্ব অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণ না করেই বিদ্যমান ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।
ইতিমধ্যে অধিদপ্তরের বেশ কিছু স্থাপনায় মোট ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌর প্যানেল কার্যকর করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ মিলছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেল বসানোর লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এক হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেল স্থাপন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এক হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে আরও এক হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এক হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সংযোগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই চার অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা একত্র করলে মোট উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে পাঁচ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াটে।
ভবনের ছাদ ছাড়াও অধিদপ্তরের বিভিন্ন অব্যবহৃত প্রান্তিক জমিতে বড় আকারের মেগাওয়াটভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি স্থানীয় দপ্তরগুলোতে সরবরাহ করা গেলে মূল বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নেমে আসবে।
উদ্যোগটিকে জাতীয় জ্বালানি রূপান্তরের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকেরা।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন ভারসাম্যের আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে সৌরশক্তির বিস্তার অত্যন্ত জরুরি। সরকারি বৃহৎ অবকাঠামোকে এভাবে কাজে লাগানোর সওজের পদক্ষেপ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও কার্যকর দৃষ্টান্ত হতে পারে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালার লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ছাদভিত্তিক সৌরব্যবস্থা সম্প্রসারণকে অন্যতম প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে এই প্রকল্পের পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, গ্রিড ব্যবস্থার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় এবং প্রতিটি স্থাপনার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অর্থনৈতিক হিসাব নিয়মিত নিরূপণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন