অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
রাজধানীর পুরান ঢাকাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এলাকাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকলে কাউকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি নিজের রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও তার শাস্তির মাত্রা আরও বেশি হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকার গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইন সংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযান চলাকালে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, যারা এই এলাকায় মাদক বিক্রি করে, ঢাকা-৬ আসনে তাদের কোনো স্থান নেই। একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন করে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেটির পতন ঘটানো হয়েছে, তাই এই মাদক কারবারিদের কোনো সুযোগ থাকতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এলাকায় যত প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীই থাকুক না কেন এবং তারা যে দলের পরিচয়েই চলুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজের দলের কোনো ব্যক্তি এই অপকর্মে জড়ালে তার দায় আরও বেশি হবে এবং শাস্তিও কঠোর হবে।
মাদকাসক্তির কারণে দেশের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, মাদক কারবারিদের গতিবিধি শনাক্ত করতে বিগত ছয় মাস ধরে নিজস্ব বিশ্বস্ত গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যারা বাইরে থেকে এসে এই এলাকায় মাদক সরবরাহ করে, তাদের ধরিয়ে দিতে যারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন, তাদের সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হবে। তিনি আরও যোগ করেন, তার নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা থেকে এই মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ধারা অব্যাহত থাকবে, যাতে দেশের কোথাও মাদক ব্যবসায়ীদের ঠাঁই না হয়।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাদের আইনি নিরাপত্তার আশ্বাস দেন ইশরাক হোসেন।
প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের গায়ে কেউ হাত তুলবে না এবং আইনবহির্ভূত কোনো নির্যাতনও করা হবে না। তাদের সরাসরি থানায় পাঠানো হচ্ছে এবং পুলিশ প্রশাসনই বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। কাউকে প্রহার করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান পরিচালিত হয়নি, বরং দেশ আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ব্যক্তিগত উপস্থিতিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পুরো আসনটিকে চিরতরে মাদকমুক্ত করতে এই অভিযান চলমান রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার ও তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অভিযানের বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেই ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় জরুরি বার্তা পাঠান। খবর পাওয়ার পরপরই থানা থেকে পুলিশের একটি দল গিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসে।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে সাদা পাউডারজাতীয় রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা এই পদার্থগুলো হেরোইন কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন