অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অঙ্কের ভর্তুকির চাপ কমাতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই দেশে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা এক ধাপ এগিয়ে গেল।
রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, দেশের বিদ্যুৎ খাতে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলা, ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ বিভাগ এই অধ্যাদেশের উদ্যোগ নেয়। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইনি ভেটিং সাপেক্ষে মন্ত্রিসভা খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সংক্রান্ত রটারডাম কনভেনশনে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়।
আগামী গ্রীষ্মের আগেই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার ছাদে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে।
বাস্তবায়ন পদ্ধতির রূপরেখা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে অর্থাৎ ‘ওপেক্স’ পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করা যাবে। এর বাইরে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পর্যাপ্ত তহবিল বা নিজস্ব আয়ের সংস্থান রয়েছে, তারা ভবিষ্যতের আর্থিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করে সরাসরি নিজস্ব অর্থায়ন বা ‘ক্যাপেক্স’ মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে।
পূর্বে ওপেক্স মডেলে সেবা প্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১৫ বছর মেয়াদে বিদ্যুতের একক মূল্য নির্ধারণ, ছাদের ব্যবহারের ভাড়া বাবদ উৎপাদিত বিদ্যুতের অংশ বণ্টন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান ছিল না। একই সাথে ক্যাপেক্স মডেলে সৌর প্যানেল স্থাপন ও পরিচালনা সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইনে স্পষ্ট কোনো আইনি কাঠামোর বিধান না থাকায় নানা প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা সৃষ্টি হতো। নতুন এই বিশেষ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এসব আইনি অস্পষ্টতা সম্পূর্ণ দূর করা হচ্ছে বলে জানান নাসিমুল গনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন