সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

ইশরাক হোসেনের ঘোষণা পদ ছাড়লেও মাদক নির্মূলে মাঠে সক্রিয় থাকবেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:১১ এএম

ইশরাক হোসেনের ঘোষণা পদ ছাড়লেও মাদক নির্মূলে মাঠে সক্রিয় থাকবেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার বেলা দুইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন।

এর আগে সকাল সাড়ে আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন যে এবার আর সংসদ সদস্য কিংবা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে শতগুণ উদ্দীপনা নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাবেন। একই সঙ্গে রাজধানীজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পোস্টের সমাপ্তিতে তিনি স্লোগান আকারে লেখেন, মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূলই তার প্রধান লক্ষ্য।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের খবরে উল্লাস প্রকাশকারীদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তিনি লেখেন, ফেসবুকে কিছু তথাকথিত সুশীল মানুষের উল্লাস চোখে পড়েছে। ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের ক্ষেত্র তৈরি হলে তারা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজপথের সেই সংগ্রামে অংশ নেন, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় গত শনিবার বিকেলে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযান চালান ঢাকা-ছয় আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক। তার নিজের পেজে প্রকাশিত সেই অভিযানের ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই তিনি আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে ধাওয়া করার নির্দেশ দিচ্ছেন। এ সময় তার পাশ থেকে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে তাড়া করে আটক করেন এবং তাদের মধ্যে একজন এক তরুণকে লাথি মারেন।

আটকের শিকার কয়েকজন দিনমজুর আকুতি জানিয়ে বলছিলেন যে তারা গরিব মানুষ এবং কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নন। পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্যও সামনে আসে।

ঘটনাস্থলে ইশরাকের সরকারি নিরাপত্তা কর্মকর্তার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগতভাবে নিযুক্ত দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু উপস্থিত ছিলেন, যাদের কাছেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর কিছু অংশে তার হাতের পিস্তল কিছুটা অস্পষ্ট করা থাকলেও অন্যান্য অংশে অস্ত্রটি পরিষ্কার দৃশ্যমান ছিল। তবে গুলি করার সরাসরি হুমকিদাতা ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সরকার ও দলের ভেতরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়। এর জের ধরে গতকাল রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেকে নিয়ে ইশরাককে পদত্যাগের স্পষ্ট নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার স্বার্থে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে এমনভাবে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

অস্ত্র প্রদর্শনের এই পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এবং অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিতর্কের মুখে ইশরাক দাবি করেছিলেন যে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় সামাজিক নেতাদের পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাদকবিরোধী প্রতিরোধ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন।

এর আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীদের নাম আসার পর গত এক অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। সেই ঘটনার আড়াই সপ্তাহের মাথায় এবার অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে ইশরাক হোসেনকেও মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।