সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন

অভিযোগ থেকে সমাধান, এক অ্যাপেই পরিচ্ছন্নতার খবর নিচ্ছে ডিএসসিসি

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

অভিযোগ থেকে সমাধান, এক অ্যাপেই পরিচ্ছন্নতার খবর নিচ্ছে ডিএসসিসি

রাজধানীর অলিতে-গলিতে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকা কিংবা নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ার ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক সমস্যা জানাতে সিটি করপোরেশনের দপ্তরে সশরীরে যাওয়া বা কোন বিভাগে অভিযোগ দিতে হবে তা চিহ্নিত করাও নগরবাসীর জন্য বাড়তি ঝক্কির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রযুক্তির ব্যবহারে এই নাগরিক ভোগান্তি কমানোর পথ দেখিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

সংস্থাটির চালু করা ‍‍`ক্লিন কেয়ার‍‍` অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। গত ৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটি উদ্বোধন করা হয় এবং ১ আগস্ট থেকে এর পূর্ণাঙ্গ মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

ডিএসসিসির সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটিতে সর্বমোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি সমস্যার সরাসরি সমাধান সম্পন্ন হয়েছে। আরও ৬৫৫টি অভিযোগ বর্তমানে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বাকি থাকা ২৪৬টি অভিযোগের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত ছিল না। এসব আবেদনের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক, রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার আওতাধীন জটিলতা ছিল। করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, নিজেদের নিষ্পত্তির হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ২৪৬টি আবেদনকে মোট হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে।

সেবাদানের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের মূল্যায়নেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। অ্যাপটিতে এ পর্যন্ত জমা হওয়া ৪৩৩টি নাগরিক পর্যালোচনার মধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক মতামত এসেছে, যা মোট পর্যালোচনার ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ব্যবহারকারীদের মূল্যায়নে পাঁচ তারকার মধ্যে অ্যাপটির গড় রেটিং দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫।

জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা অঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়ে মাঠপর্যায়ে তদারকি নিশ্চিত করছে এই প্রযুক্তি। এতে নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোন এলাকায় তাৎক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান জরুরি তা চিহ্নিত করা সহজ হচ্ছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ক্লিন কেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখায় নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, করপোরেশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবাকেও এই একক প্ল্যাটফর্মের আওতায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় নাগরিক সংযোগ ও জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়।

নগর পরিচ্ছন্নতাকে ধারাবাহিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, শুধু নির্দিষ্ট সময়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা আবর্জনা অপসারনেই দায়িত্ব শেষ হয় না। এর জন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া। নাগরিকদের মতামত সিটি করপোরেশনের সেবাকে আরও কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

অ্যাপে নাগরিকদের বিপুল আগ্রহ ইতিবাচক হলেও সেবার দীর্ঘমেয়াদি গুণগত মান রক্ষা এবং অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের দ্রুত সমাধান এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকলে এই উদ্যোগ আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার কার্যকর মডেল হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বাসস