রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

লালনবাদ বলে কিছু নেই সবই গুরুবাদ ছেঁউড়িয়ায় বললেন ফরহাদ মজহার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

লালনবাদ বলে কিছু নেই সবই গুরুবাদ ছেঁউড়িয়ায় বললেন ফরহাদ মজহার

ছবি: সংগৃহীত

লালন সাঁইয়ের দর্শনে কোনো পৃথক ‘বাদ’ বা তত্ত্বের স্থান নেই উল্লেখ করে বিশিষ্ট কবি, লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, লালনবাদ বলে কোনো বাদ নেই, সবই মূলত গুরুবাদ। রোববার (১৮ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউরিয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় বিশেষ সম্মানীয় অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

ফরহাদ মজহার উল্লেখ করেন, লালনকে সাধারণ বাউল পরিচয়ে আবদ্ধ করার প্রচলিত প্রবণতা বন্ধে দীর্ঘ লড়াই চালাতে হয়েছে। লালনের কোনো গানের মধ্যেই ‘বাউল’ শব্দের সরাসরি উপস্থিতি নেই। তাঁর স্পষ্ট অভিমত, লালনকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে হলে বাউল ধারণার বাইরে এসে প্রকৃত ফকিরদের সান্নিধ্যে বসতে হবে।

লালন একাডেমির মঞ্চে মূল গানের কথা ও পরিবেশনার সুর পরিবর্তনের বিষয়ে কঠোর আপত্তি জানান এই চিন্তক। তিনি মন্তব্য করেন, মূল কথা বা সুরে কোনো প্রকার পরিবর্তন আনার নৈতিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার একাডেমির নেই। আগের দিন অনেক গান বিকৃত কথা ও বদলে যাওয়া সুরে পরিবেশন করতে শোনার কথা জানিয়ে তিনি লালনের সংগীত ও বাণী নিয়ে আরও গভীর গবেষণার তাগিদ দেন।

সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ফরিদা পারভীনের পূর্বে লালনগীতি মূলত পল্লীগীতির ঢং ও সুরে গাওয়া হতো। চলমান আয়োজনে ফরিদা পারভীনকে উপযুক্ত সম্মাননা জানানো প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে, তাঁকে সম্মানিত না করায় নিজের প্রদত্ত বক্তব্যটি তাঁর প্রতি উৎসর্গ করেন ফরহাদ মজহার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ হারুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক রেজাউল করিম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার।

আলোচনা পর্বের সমাপ্তি শেষে মূল মঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী এবং দেশবরেণ্য বিশিষ্ট লালনসংগীতশিল্পীরা সাঁইজির আধ্যাত্মিক সংগীত পরিবেশন করেন।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। এরপর থেকে প্রতিবছর তাঁর ভক্ত-অনুসারী, লালন একাডেমি এবং কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় তিরোধান দিবস স্মরণে এই স্মরণোৎসব ও মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।