সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
জাতীয় পুনর্গঠন

সুন্দর দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৫১ এএম

সুন্দর দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এই অগ্রযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঐক্যই পরিবর্তনের মূল শক্তি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুন্দর একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন সবাই দেখলেও তা বাস্তবায়নে সম্মিলিত কাজের বিকল্প নেই। এই উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং ২০০৩ সালে তিনি নিজে সংগঠনটির মূল স্লোগান লিখেছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে অবিচলভাবে কাজ করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে ‍‍`একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা‍‍` এই দর্শন বাস্তবায়ন করা পুরোপুরি সম্ভব। এর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।

বাবার স্মৃতিচারণ করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যার কণ্ঠ একসময় রুদ্ধ করা হয়েছিল। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষক সমাজকে স্বাবলম্বী করতে বীজ সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণে জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি শিল্প খাত শক্তিশালী করা, ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়ানো এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করেছিলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৯৯ সালে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। ফলে দলীয়ভাবে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও জনগণের বঞ্চনা ও গণতন্ত্রের দাবিগুলো তারা তুলে ধরেছেন, যার জন্য বহু নেতা-কর্মীকে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে গিয়ে মানুষের সরাসরি সেবা করতে ও শহীদ জিয়ার জনকল্যাণমুখী কাজগুলো চালু রাখতেই এই অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলা হয়। তিনি জানান, ঢাকা শহরে পরিবেশ রক্ষায় ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কয়েক লাখ গাছ লাগানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি জনকল্যাণের মাধ্যম হলেও রাজনীতির বাইরে গিয়েও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও প্রকৃতির জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ থাকে। সমাজে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি থাকলেও তাদের সম্পদ কেবল নিজেদের কাজেই সীমাবদ্ধ রাখেন। সেই সম্পদের সামান্য অংশও যদি মানবসেবা ও পরিবেশের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, তবে বহুজনের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, সেবামূলক কাজে অর্থ বা সামর্থ্য সবসময় মূল বিষয় নয়, সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আন্তরিক ইচ্ছা। সংগঠনের প্রতিটি কর্মীর মধ্যে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সেই প্রবল ইচ্ছা থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুরু থেকেই জেডআরএফ গরিব ও দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ, পশু ও সেলাই মেশিন বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, কৃষকদের বীজ সহায়তা এবং দুর্যোগকালীন পুনর্বাসনে কাজ করে আসছে।