সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বাস্থ্য সচেতনতা

মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার ৮টি লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকদের জরুরি সতর্কবার্তা

স্বাস্থ্য ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম

মস্তিষ্কে টিউমার হওয়ার ৮টি লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসকদের জরুরি সতর্কবার্তা

কাজের চাপ, অনিদ্রা কিংবা দীর্ঘক্ষণ ডিজিটাল পর্দায় চোখ রাখার পর মাথা ধরার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এমন হলে অনেকেই সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কেউ ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেন, আবার কেউ কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করেন। সাধারণ মাথাব্যথা সবসময় বিপজ্জনক নয়।

তবে ব্যথার ধরন যদি হঠাৎ বদলে যায়, তীব্রতা বাড়তে থাকে কিংবা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা অবহেলার সুযোগ নেই। কারণ সাধারণ উপসর্গের আড়ালে এটি মস্তিষ্কে টিউমার সৃষ্টির পূর্বাভাসও হতে পারে। অনেক সময় ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে জটিল এই উপসর্গগুলোকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করেন রোগীরা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নেহা পণ্ডিতা জানান, মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম, পানিশূন্যতা বা চোখের ওপর বাড়তি চাপের কারণে সচরাচর মাথা ধরতে পারে। কিন্তু ব্যথা যদি স্থায়ী রূপ নেয় বা অস্বাভাবিক মনে হয়, তবে দ্রুত মূল কারণ চিহ্নিত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাথাব্যথা ক্রমান্বয়ে ঘন ঘন হওয়া এবং তীব্রতা বেড়ে যাওয়া একটি প্রধান সতর্কসংকেত। কারও কারও ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই ব্যথার তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। আবার এমনও দেখা যায়, ব্যথার তীব্রতায় মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে এবং সঙ্গে বমি ভাব বা সরাসরি বমি হচ্ছে।

ইয়াথার্থ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও গ্রুপ ডিরেক্টর ডা. কুনাল বাহরানিও মাথাব্যথার রূপ পরিবর্তনের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বের ব্যথার ধরনের সঙ্গে নতুন ব্যথার স্পষ্ট ফারাক থাকলে, স্বাভাবিক কোনো উপশমে আরাম না মিললে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। এ ছাড়া কাশি দেওয়ার সময়, সামনের দিকে শরীর ঝুঁকলে কিংবা শরীরচর্চা বা ভারী ব্যায়ামের সময় মাথাব্যথা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

মস্তিষ্কের টিউমার যে অংশে অবস্থান নেয়, তার ওপর ভিত্তি করে উপসর্গের প্রকৃতিতে ভিন্নতা আসতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত আটটি লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রথমত, বারবার মাথাব্যথা ফিরে আসা। ব্যথা আগের চেয়ে দ্রুত ঘন ঘন হতে থাকলে, তীব্রতা মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে বা ধরন সম্পূর্ণ বদলে গেলে সতর্ক হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা। ভোরে বা ঘুম ভাঙার মুহূর্তে বেশি ব্যথা লাগা কিংবা ব্যথার কারণে রাতের ঘুম ব্যাহত হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষ করে সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব থাকলে।

তৃতীয়ত, দৃষ্টিশক্তিতে আকস্মিক পরিবর্তন। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা কিংবা একটি জিনিসকে দুটো করে দেখার সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এটিকে কেবল চোখের সাধারণ ক্লান্তি ভেবে ভুল করা যাবে না।

চতুর্থত, ভারসাম্যহীনতা ও মাথা ঘোরা। সোজা হয়ে হাঁটতে সমস্যা হওয়া, চলাফেরায় শরীরের পারস্পরিক সমন্বয় নষ্ট হওয়া বা একটানা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পঞ্চমত, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে অবশ ভাব ও দুর্বলতা। হাত কিংবা পায়ের কোনো অংশে শক্তি কমে যাওয়া, অবশ অনুভূতি হওয়া অথবা সংবেদনশীলতায় পরিবর্তন আসা অন্যতম উপসর্গ। বিশেষ করে শরীরের যেকোনো এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়লে দেরি না করে চিকিৎসার আওতায় আসতে হবে।

ষষ্ঠত, কথা বলায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে সমস্যা হওয়া, মনের ভাব প্রকাশের জন্য সঠিক শব্দটি খুঁজে না পাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়া স্নায়ুতন্ত্রে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

সপ্তমত, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও আচরণে রূপান্তর। কাজে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা হারানো, স্মৃতিশক্তির ঘাটতি, বিনা কারণে তীব্র বিরক্তি, মেজাজের অস্থিরতা কিংবা ব্যক্তিত্বে অস্বাভাবিক বদল দেখা দিতে পারে। অনেকে একে সাধারণ মানসিক অবসাদ বা ক্লান্তি মনে করে ভুল করেন।

অষ্টমত, খিঁচুনি বা শরীরে কাঁপুনি। জীবনে আগে কখনোই খিঁচুনির ইতিহাস ছিল না, এমন কোনো ব্যক্তির হঠাৎ খিঁচুনি শুরু হলে তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

অবশ্য এসব লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মানেই নিশ্চিত মস্তিষ্কে টিউমার বাসা বেঁধেছে, এমনটি নয়। দৈনন্দিন বহু সাধারণ বা কম জটিল স্বাস্থ্যসমস্যার কারণেও এ ধরনের শারীরিক উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।

মাথাব্যথা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে, তীব্রতা ক্রমেই বাড়লে অথবা একাধিক অস্বাভাবিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে কালবিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্রতম মাথাব্যথা শুরু হলে, জীবনে প্রথমবার খিঁচুনি দেখা দিলে, কথা স্পষ্ট বলতে না পারলে কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ বা শক্তিহীন হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসা নেওয়া আবশ্যক।