সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানালেন এলজিআরডি মন্ত্রী ড. মঈন খান

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানালেন এলজিআরডি মন্ত্রী ড. মঈন খান

জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট করেন যে বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। এই সামাজিক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রেখেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নরসিংদী সদর ও পলাশ উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি পাঁচদোনা শ্রী শ্রী হরি মন্দির এবং পলাশ বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি ভক্ত ও পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় মন্ত্রী নিজস্ব তহবিল থেকে মন্দিরগুলোতে আর্থিক অনুদান দেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীদের হাতে উপহার হিসেবে শাড়ি তুলে দেন।

দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য গভীরভাবে অনুধাবনের তাগিদ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, অন্যায়, জুলুম ও সামাজিক অত্যাচার দূরীভূত করে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যে চিরন্তন বার্তা দুর্গাপূজা দেয়, তা কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ব্যক্তি, পারিবারিক ও বৃহত্তর সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই শিক্ষাকে ধারণ ও অনুসরণ করা অপরিহার্য। সাধারণ মানুষের ওপর যেকোনো অবিচার দূর করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেতনা অন্তরে লালন করার ওপর জোর দেন তিনি।

নরসিংদী অঞ্চলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক কিংবা আঞ্চলিক নানা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও এ অঞ্চলের মানুষ সবসময় সামাজিক বন্ধন ও সৌহার্দ্য রক্ষা করেছেন। আগামী দিনগুলোতেও এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আবহ টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি নাগরিককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ করতে চান, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। প্রতিটি নাগরিককে বাংলাদেশি পরিচয়ে একতাবদ্ধ হয়ে দেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

পলাশ বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে সমবেত মানুষের উদ্দেশে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনপদের মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক ও দীর্ঘদিনের মেলবন্ধন রয়েছে। এ কারণেই তিনি প্রতিবছর শারদীয় উৎসবে এই এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করেন।

মন্দিরসহ পুরো অঞ্চলের অবকাঠামোগত ও সামাজিক উন্নয়নে আগামী দিনেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে দেবী দুর্গার ন্যায়নিষ্ঠ আদর্শ অনুসরণ করে পলাশকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও সমৃদ্ধ উপজেলায় পরিণত করতে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন ড. মঈন খান।