সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
শারদীয় উৎসব

কুমারী পূজা ও মহাঅষ্টমীর ধর্মীয় আচারে মুখর দেশের পূজামণ্ডপ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

কুমারী পূজা ও মহাঅষ্টমীর ধর্মীয় আচারে মুখর দেশের পূজামণ্ডপ

ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে আজ আরাধনা করা হচ্ছে নারীশক্তির। আজ সোমবার ভোর থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে কল্পারম্ভ, বিহিতপূজা এবং চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মহামায়ার বিশেষ অর্চনা শুরু হয়েছে। মহাঅষ্টমী পূজার প্রধানতম আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা, যেখানে শুদ্ধাত্মা কন্যাশিশুকে দেবীজ্ঞানে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল থেকেই মহাঅষ্টমীর আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠান চলছে। সেখানে সকাল সাড়ে নয়টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা।

সনাতন শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, এক থেকে ১৬ বছর বয়সী কুমারী কন্যাকে সাক্ষাৎ দেবী দুর্গার জীবন্ত প্রতীক রূপ ধরে এই অর্চনা সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, সমগ্র জগৎমাতার শক্তির স্বরূপ প্রতিটি নারীর অন্তরে সুপ্ত অবস্থায় বিরাজ করে। ফলে নারীর সম্মান রক্ষা করা এবং মাতৃশক্তির মর্যাদা তুলে ধরাই এই পূজার গভীর দার্শনিক শিক্ষা।

মহাঅষ্টমীর আরেকটি প্রধান শাস্ত্রীয় পর্ব হলো সন্ধিপূজা।

অষ্টমী ও নবমী তিথির মিলনলগ্নে এই বিশেষ পূজা আয়োজিত হয়ে থাকে। হিন্দু পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, অসুর চণ্ড ও মুণ্ডকে সংহার করার উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গা এই সন্ধিক্ষণে চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেছিলেন। সেই স্মরণীয় মাহাত্ম্যকে হৃদয়ে ধারণ করে সন্ধিপূজার প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়।

পূজা সমাপনের পর ভক্তরা হাতে ফুল ও বেলপাতা নিয়ে পুরোহিতের সাথে উচ্চারিত মন্ত্রে দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করবেন। পরবর্তীতে উপস্থিত ভক্তরা কুমারী দেবীর চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ নেবেন এবং বিভিন্ন মণ্ডপে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।