অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে এক গৃহবধূ এবং তাঁর দুই শিশু সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের বালুপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন অমরপুর ইউনিয়নের বালুপাড়া এলাকার শাকিল ইসলামের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার (২২), তাঁদের ছেলে সাফায়েত (৩) এবং মেয়ে রইফা মনি (২)।
স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ। তবে নিহত গৃহবধূর স্বজনরা দাবি করেছেন, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং দুই সন্তানসহ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী শাকিল, শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন এবং শাশুড়ি ইসমত আরাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার বিকেলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন স্বর্ণা আক্তার। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে।
মৃত্যুর আগে শোবার ঘরের দেয়ালে লেখা একটি বার্তা দেখতে পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দেবেন না। আমি অভাগী মা নিজে মারছি। আমাদের লাশ পলাশবাড়ী মাটি দেবেন। শাকিল যেন স্পর্শ না করে। মা-বাবা দুঃখিত, আমি তোমাদের ভালোবাসি। আরেকটি দেয়ালে সন্তানদের নাম উল্লেখ করে ভালোবাসা ও আবেগময় কথা লেখা ছিল।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে পুলিশের তদন্তেও।
চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুন নবী জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পর গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ পায়নি, মরদেহ মাটিতে শোয়ানো অবস্থায় ছিল। ফাঁসের অবস্থান থেকে মরদেহ কে নিচে নামিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয় এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে অপরাধ তদন্ত বিভাগ, গোয়েন্দা পুলিশ এবং থানা পুলিশ একযোগে কাজ শুরু করেছে।
দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন