সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,
ঐতিহ্যের দুর্গোৎসব

রংপুরে বনেদি বাড়ির আদলে দুর্গাপূজা ঠাকুরদালান দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ

অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

রংপুরে বনেদি বাড়ির আদলে দুর্গাপূজা ঠাকুরদালান দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

ছবি: দিনাজপুর টিভি

কলকাতার বনেদি বাড়ির আবহ ও আভিজাত্যপূর্ণ ঐতিহ্যের আদলে এবার দুর্গাপূজার বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে রংপুরের প্রত্যন্ত এক পল্লীতে। রংপুর নগরী থেকে কিছুটা দূরে পালিচড়ার মাধবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে গড়ে উঠেছে এই ব্যতিক্রমী উৎসব প্রাঙ্গণ।

ঐতিহ্যবাহী বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজা বলতেই সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিজস্ব ঠাকুরদালান, ধ্রুপদী স্থাপত্যশৈলী এবং বিশেষ রীতির প্রতিমা। সেই আবহকে ধারণ করে মাধবপুরের এই বাড়িতে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক স্থাপত্য এবং সুদৃশ্য পারিবারিক ঠাকুরদালান। দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা আর আভিজাত্যের স্পর্শে পুরো চত্বরে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী এক উৎসবের আবহ।

এই বিশেষ আয়োজন দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেবল স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন মাধবপুরের এই পূজামণ্ডপে। দর্শনার্থীদের কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন বাড়ির নির্মাণশৈলী ও ঠাকুরদালানের আভিজাত্য দেখে, আবার কেউবা প্রতিমার শৈল্পিক রূপ উপভোগ করছেন। অনেকের কাছেই গ্রামীণ পটভূমিতে কলকাতার ঐতিহ্যের এই প্রতিফলন শারদীয় দুর্গোৎসবে যোগ করেছে একেবারেই নতুন অনুভূতি।

তবে এই পূজার মূল বৈশিষ্ট্য কেবল বাহ্যিক জৌলুস বা স্থাপত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পূজা উদযাপনের বিধানেও রয়েছে গভীর স্বাতন্ত্র্য।

এখানে সম্পূর্ণভাবে বৈষ্ণব রীতি অনুসরণ করে পূজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এই রীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, দেবী দুর্গাকে ভোগ নিবেদনের আগে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে অন্ন ও অন্যান্য প্রসাদ নিবেদন করা হয়।

পূজার পুরোহিত অঙ্কিঞ্চন চৈতন্য জানান, শ্রীকৃষ্ণকে অগ্রে ভোগ দেওয়ার এই বিধানের পেছনে রয়েছে তাঁদের বংশপরম্পরায় চলে আসা পারিবারিক বিশ্বাস ও গভীর আত্মিক ঐতিহ্য।

মাধবপুরের এই বাড়িটির স্বত্বাধিকারী গৌতম সরকার নিজস্ব পারিবারিক চেতনা ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। নিজের বাড়িতে কলকাতার ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির আদলে পূজা প্রাঙ্গণ গড়ে তোলার ভাবনা এবং উৎসবের সামগ্রিক আয়োজন তিনি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন করেছেন।

কলকাতার ধ্রুপদী শৈলী, বৈষ্ণবীয় আচার এবং আট জেলার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় মাধবপুরের এই দুর্গাপূজা রূপ নিয়েছে ঐতিহ্য ও পারিবারিক বিশ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধনে।