জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
বিকেলে বাবাকে চিরবিদায় জানিয়ে দাফন সম্পন্ন করার পর শোকের মাতম ভুলে রাতেই বই হাতে ছুটতে হয়েছে কর্মস্থলে। প্রিয় বাবাকে হারানোর গভীর বেদনা বুকে চেপে রাতের ডিউটি শেষ করে ঠিক পরদিন সকালেই অংশ নিতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষায়। জীবনের এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অনন্য এক জীবন সংগ্রামের গল্প লিখেছেন বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন।
বাবা হারানোর গভীর শোক আর সংসারের কঠিন দায়িত্বের মাঝেও তার এই লড়াই মুগ্ধ করেছে সবাইকে।বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত ইসরাফিল দাড়িয়ার ছোট ছেলে ইকন। গত একুশে জুলাই ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে আড়াই শ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে মায়ের কবরের পাশে তার মরদেহ দাফন করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায় পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন ইকন। খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এই শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করে আসছেন।
বাবার দাফন সম্পন্ন করেই মঙ্গলবার রাতে তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান এবং দায়িত্ব পালন করেন। চোখে জল আর বুকভাঙ্গা ব্যথা নিয়েও পরদিন সকালে হাসিমুখে পরীক্ষায় বসেছিলেন এই তরুণ। কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন জানান, এত বড় শোকের মধ্যেও ইকনের দায়িত্ববোধ ও মানসিক জোর অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং তার এই অদম্য লড়াই সমাজের অন্য সবার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন