বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

মোদির ছবি যুক্ত করে রাবনের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

মোদির ছবি যুক্ত করে রাবনের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ শীর্ষ রাজনৈতিক ও করপোরেট ব্যক্তিত্বদের ছবি রাবণের প্রতিকৃতিতে যুক্ত করে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই)। সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় চত্বরে এই প্রতীকী কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

‍‍`উল্টো হচ্ছে গিয়ে রাবণ দহন‍‍` শিরোনামের এই কর্মসূচিতে রাবণের দশ মাথায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার গণেশ কুমার, ধনকুবের গৌতম আদানি ও মুকেশ আম্বানি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত গৌতমের মুখের ছবি বসানো হয়।

এনএসইউআই নেতাদের অভিযোগ, দেশে ভোট কারচুপি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাতীয় সম্পদ ব্যক্তিগত খাতে হস্তান্তর, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং নারী নির্যাতনে অভিযুক্তদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, তরুণ সমাজের সংকট মোকাবিলা এবং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান প্রশাসন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গণেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংগঠনটি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন নিজেদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি বলে তাদের দাবি।

কর্মসূচি প্রসঙ্গে এনএসইউআইয়ের জাতীয় গণমাধ্যম সমন্বয়ক রবি পান্ডে জানান, বিজয়া দশমী অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের এবং অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের বিজয়ের প্রতীক। এই বার্তা সামনে রেখেই ভোট অনিয়ম ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে রাবণ দহনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের সংবিধান ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তাদের এ সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

সংগঠনটির দিল্লি শাখার সমন্বয়ক অখিলেশ যাদব উল্লেখ করেন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমানের বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।