বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

মোদি সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যা সিজেপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

মোদি সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যা সিজেপির

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে স্বৈরাচার আখ্যা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশটিতে ভিন্নমত ও বিরোধীদের কঠোরভাবে স্তব্ধ করতে সরকার নজিরবিহীন দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লির দিল্লি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরাচারীতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তার দেশে জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সৎসাহস নেই।’

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দিল্লিতে সিজেপির নেতাকর্মী, বামপন্থি ছাত্র সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ওপর পুলিশের কঠোর অভিযান ও ধরপাকড়ের প্রেক্ষাপটে এই ক্ষোভ জানান তিনি। বিক্ষোভকারীদের ওপর ধারাবাহিক পুলিশি বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন এই রাজনৈতিক নেতা।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আপনারা যদি এ ধরনের প্রতিবাদী মানুষদের দমন ও আটক করতেই চান, তাহলে সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল আপনারা সাধারণ মানুষকে এভাবে বোকা বানিয়ে রাখবেন?’

সংবাদ সম্মেলনে যন্তর মন্তরে দলীয় সহকর্মীদের আটকের ঘটনাও তুলে ধরা হয়। দুই দিন আগে ভারতের জাতীয় তেরঙ্গা পতাকা হাতে নিয়ে দিল্লির ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে যাওয়ার অপরাধে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের এই আদেশ ও পুলিশের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীন ভারতে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হিসেবে গণ্য হলো?’

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে যেভাবে আন্দোলন দমন করা হতো, এখন মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীন দিল্লি পুলিশও একইভাবে আচরণ করছে। নিজেদের মাতৃভূমিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় নাগরিকদের এখন জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিরপেক্ষতা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলেন সিজেপি প্রধান।

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির কাছে ঠিক কী কারণে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন?’

দলীয় দুই নেতার গ্রেপ্তারের পক্ষে পুলিশের সাফাই খারিজ করে দীপকে বলেন, তারা নিজেদের রাজ্যে জাতীয় পতাকা ওড়াননি—এমন খোঁড়া যুক্তিতে আপত্তি তোলা হচ্ছে। এই ভূখণ্ড মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আদর্শ এবং বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের প্রণীত গণতান্ত্রিক সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

যন্তর মন্তরে মুক্ত প্রতিবাদের অধিকার সংকুচিত করা এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

তিনি শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সাধারণ নাগরিক ও সমমনাদের সমবেত হয়ে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। সেই সময়সীমা পার হওয়ার পরই দিল্লির রাজপথে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে দলটি।