মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

হঠাৎ দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার মোদির সাথে সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

হঠাৎ দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার মোদির সাথে সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ করেই নয়াদিল্লি সফরে গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে তার একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে ঢাকার আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও বার্তা সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে পারেন হাইকমিশনার। 

একই সাথে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকার তোলা সুনির্দিষ্ট শর্ত ও দ্বিপক্ষীয় উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়েও মোদির সাথে আলোচনা হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দ্বিতীয় দফায় কূটনৈতিক পর্যায়ে নিবিড় আলোচনা চলছে। এর আগে প্রাথমিক পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সফর নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সেই প্রক্রিয়া কার্যত থমকে যায়।

ওই ঘটনার পর ঢাকার পক্ষ থেকে সফরের আগে একটি অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরির আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হয়। তখন স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাবেন। তবে সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

এরই মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম পাড়ায় নভেম্বরের শেষভাগে তারেক রহমানের ভারত সফরের জোর গুঞ্জন চলছে। কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে নভেম্বর মাসেই এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য প্রচার করা হলেও ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সফরসূচি ঘোষণা করা হয়নি। সফরের দিনক্ষণ নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উভয় দেশের জন্য সুবিধাজনক একটি সময়ে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে যাবেন।

চলতি বছর সরকারপ্রধানের ভারত সফরের বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা চায় একটি সম্পূর্ণ অনুকূল পরিবেশে এবং যথাযথ দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় সফরটি অনুষ্ঠিত হোক। তবে সফরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত তারিখ উল্লেখ করতে তিনি রাজি হননি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নিছক একটি সাধারণ ফোনকলে দুই দেশের অমীমাংসিত জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান আসে না। উভয় পক্ষ নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো ইতিবাচক গতিতেই সামনের দিকে এগোচ্ছে।