অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহের দীর্ঘদিনের প্রচলিত মোবাইল খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠানোর পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার।
পূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে নির্ধারিত ১৬২২২ নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে ফলাফল সংগ্রহ করা হলেও এবার থেকে পরীক্ষার্থীদের ১৬১৪০ নম্বরে বার্তা পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন পরীক্ষার ফলাফল জানার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নতুন এই প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
ঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামী ৩১ অক্টোবর বেলা ১১টায় দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল একযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। নির্ধারিত সময় ফল প্রকাশের পরপরই পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড, অনলাইন পোর্টাল এবং মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল দেখতে পাবেন।
খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানার সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোনের বার্তা লেখার অংশে গিয়ে বড় হাতের ইংরেজি অক্ষরে এইচএসসি লিখে একটি ফাঁকা জায়গা বা স্পেস দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি ইংরেজি অক্ষর লিখে পুনরায় স্পেস দিয়ে পরীক্ষার্থীর ছয় অঙ্কের রোল নম্বর এবং পরীক্ষার সন ২০২৬ লিখে বার্তাটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কোনো পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ১২৩৪৫৬ হলে বার্তা অপশনে গিয়ে লিখতে হবে এইচএসসি ডিএইচএ ১২৩৪৫৬ ২০২৬। এরপর বার্তাটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি বার্তায় বিস্তারিত গ্রেড ও ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি ইংরেজি অক্ষর এবং রোল নম্বর ও পাসের সন নির্ভুলভাবে লেখা অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য বা ভুল বিন্যাসে বার্তা পাঠালে ফল প্রাপ্তিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রতিটি বার্তা প্রেরণের ক্ষেত্রে মোবাইল সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত প্রযোজ্য বার্তা মাশুল বা চার্জ কর্তন করা হবে।
অনলাইনে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সরকারি দুটি মূল কেন্দ্রীয় পোর্টাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এডুবোর্ডরেজাল্ট ডট গভ ডট বিডি এবং এডুকেশনবোর্ডরেজাল্টস ডট গভ ডট বিডি ঠিকানায় প্রবেশ করে ফল জানতে পারবেন। এই ওয়েবপোর্টালগুলোতে প্রবেশ করে পরীক্ষার নাম, সন, নির্দিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করলেই পূর্ণাঙ্গ নম্বরপত্র দৃশ্যমান হবে।
ফল প্রকাশের প্রাথমিক মুহূর্তে দেশজুড়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক একসঙ্গে সার্ভারে প্রবেশের কারণে সাময়িক গতি ধীর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে পুনরায় চেষ্টা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সাথে বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রধান কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যক্তিগত পরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ নেই। তাই অনলাইন, নির্ধারিত বার্তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করাই একমাত্র বৈধ উপায়।
প্রকাশিত ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের অনলাইন আবেদন কার্যক্রম আগামী ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে।
বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনামতে, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের ফলাফল পুনঃমূল্যায়নের আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদনের সম্পূর্ণ পদ্ধতি, প্রতি পত্রের জন্য নির্ধারিত ফি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারিগরি নিয়মাবলি শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগেই প্রকাশ করা হবে।
তবে পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি কোনোভাবেই নতুন করে পুরো খাতা নতুন কোনো পরীক্ষক দিয়ে পুনরায় দেখানোর ব্যবস্থা নয়। বরং বোর্ডের অনুমোদিত নিয়মানুযায়ী মূল উত্তরপত্রের ভেতরের সব প্রশ্নের প্রাপ্ত নম্বর সঠিক নিয়মে গণনা করা হয়েছে কি না, খাতায় কোনো অবমূল্যায়িত অংশ বাদ পড়েছে কি না এবং মোট নম্বরের যোগফল সঠিক রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা হয়।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের তাত্ত্বিক পরীক্ষা গত ২ জুলাই একযোগে শুরু হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ আগস্ট সমাপ্ত হয়।
তবে পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে স্থগিত হওয়া সেই বিষয়গুলোর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় ওই একক বোর্ডের পরীক্ষা সমাপ্ত হতে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় গড়িয়ে যায়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর দেশের সাধারণ নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নয় হাজার ৪৩৯টি অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
বোর্ড কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে পুরোনো নম্বরের পরিবর্তে নতুন ঘোষিত ১৬১৪০ নম্বরটি সতর্কতার সাথে সংরক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যাদের প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকবে, তাদের আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার ভেতরেই টেলিটকের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণ ফি পরিশোধ করে আবেদন সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন