শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬,
রহস্যজনক মৃত্যু

তাহসিফের মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

তাহসিফের মৃত্যু রহস্যে নতুন মোড়

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন সূত্র পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। 

পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর মাজার বস্তির হোন্ডা গলি এলাকায় অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। সেখানে একটি দোকানের সামনে নম্বরপ্লেটবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকা মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া যানটি তাহসিফের বলে নিশ্চিত করেন দ্বীপ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার রাতে দ্বীপ ও তাহসিফের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। ওই রাতে তাঁদের সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকাতেই।

জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, তাঁরা দুজন উত্তরা থেকে দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে ঘুরতে বের হয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন।

দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেল রেখে তাঁরা তুরাগ নদের পাড়ে যান এবং সেখানেই তাহসিফ নিখোঁজ হন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে দ্বীপ একাই বাসায় ফিরে যান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া পিবিআই কর্মকর্তা সাজিদ জানান, দ্বীপের দেখানো স্থান থেকেই যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গভীর রাতে তাঁরা ঠিক কী কারণে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দ্রুতই এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানান তিনি।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে ঢাকার উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজাঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছিল নৌ পুলিশ।

তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের কোনো হদিস মিলছিল না। গাড়িটি উদ্ধারের মাধ্যমে তদন্তে নতুন অগ্রগতি এলেও তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।