অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ভোক্তাদের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সহজলভ্যতা বাড়াতে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামী নভেম্বর মাস থেকে সংস্থাটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও প্যাকেটজাত চা বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়ে স্বনির্ভর হতেই এই বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বর থেকে বাজারে আসবে প্যাকেটজাত গুঁড়া মসলা ও অনুমোদিত চা।
সংস্থাটি পরবর্তীতে খোলাবাজারে প্যাকেটজাত আটা বিক্রির পরিকল্পনাও বিবেচনায় রেখেছে।
বাজারে বিদ্যমান চাহিদা মূল্যায়নে বর্তমানে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। সমীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে আরও কিছু নিত্যব্যবহার্য পণ্য বিক্রির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়িয়ে সরকারি অনুদান বা ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সম্পূর্ণভাবে স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে টিসিবি।
সংস্থাটি ইতোমধ্যে কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও খাবার লবণ বিক্রি করছে। খোলাবাজারের সাধারণ মূল্যের চেয়ে এসব পণ্যের দাম কিছুটা কম হলেও সংগ্রহের ব্যয়ের তুলনায় সামান্য বেশি রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে সীমিত আয়ের মানুষ বাজারদরের চেয়ে কমে মানসম্মত পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে সংস্থাটির তহবিলে সামান্য মুনাফা জমা হচ্ছে।
সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক এই কার্যক্রম থেকে সংস্থাটি মোট ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে।
ফয়সল আজাদ উল্লেখ করেন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে যত বেশি সংখ্যক ক্রেতার কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ও তত বাড়বে। মূল লক্ষ্য হলো অতিরিক্ত পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সংস্থার মূল তহবিলে বাড়তি অর্থের সংস্থান তৈরি করা।
বর্তমানে নতুন এসব বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে টিসিবি প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ ভোক্তার কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এই সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সেবাগ্রহীতার এই সংখ্যা এক কোটিতে নিয়ে যাওয়ার সামগ্রিক পরিকল্পনা রয়েছে।
চার মাস আগে এই বাণিজ্যিক পণ্যগুলো বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং মাঠপর্যায়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নতুন এসব পণ্য বাজারে আসার কারণে নিয়মিত ভর্তুকিযুক্ত পণ্যের দাম বা সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না। এসব বাণিজ্যিক পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হবে না, এটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বরাদ্দ কর্মসূচির বাইরে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনিসহ অন্যান্য প্রাথমিক পণ্য উন্মুক্ত বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি বিশেষ পরীক্ষামূলক উদ্যোগ শুরু হয়েছে এবং প্রস্তাবিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগ্রহী ডিলারদের কাছ থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন