সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির সেবামূলক কার্যক্রমকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে সর্বাত্মক ডিজিটাল রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির নিজস্ব সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আধুনিক এই ব্যবস্থার সূচনা ঘটে। নতুন এই প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল কার্ড, `উপকারী` মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ডিলার ব্যবস্থাপনা, অল ইন ওয়ান পয়েন্ট অব সেলস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকির পণ্য পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে। ভর্তুকির অপচয় রোধে প্রযুক্তিই হবে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে এখনো উৎপাদন পর্যায় থেকে রাজধানী বা শহরাঞ্চলের খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছানোর সরবরাহ শৃঙ্খল পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন হয়ে ওঠেনি। ফলে মাঠপর্যায়ের উৎপাদনমূল্যের সাথে বাজারদরের বিশাল ফারাক তৈরি হয় এবং সাময়িক ঘাটতি পুরো বাজারব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতার জন্ম দেয়। এমন বাস্তবতায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি। তিনি আরও জানান, প্রযুক্তি হবে মানুষের সেবায় এবং এর মাধ্যমে বণ্টন প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বর ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করে ভুয়া ও অযোগ্য প্রায় ৫৯ লাখ আবেদনকারীকে তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটি সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও যাচাইকৃত ডেটাবেস প্রস্তুত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৯ লাখ প্রকৃত পরিবার এই সেবার আওতায় রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে এই সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন চালু হওয়া `উপকারী` অ্যাপের মাধ্যমে সনাতন কার্ডের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও পণ্য নিতে পারবেন সুবিধাভোগীরা। এনক্রিপ্ট করা ডিজিটাল কিউআর কোড স্ক্যান করে উপকারভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে, যার ফলে কার্ড হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হলেও নির্ধারিত সুবিধা থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না। ডিলারদের আবেদন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে পরিচালিত হবে এবং আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার চূড়ান্ত করা হবে। আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট কালেকশন সুবিধা।
মাঠপর্যায়ে বিক্রয় তদারকিতে আধুনিক অল ইন ওয়ান পিওএস যন্ত্র চালু করা হচ্ছে, যাতে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই, ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ এবং সাথে সাথে ছাপানো বিক্রয় রশিদ সরবরাহের সুযোগ থাকবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কোন দোকানে কত পণ্য বিক্রি হচ্ছে তা সার্বক্ষণিক কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা যাবে, যাতে অনিয়ম শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে এআইচালিত একটি কন্টাক্ট সেন্টার খোলার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন প্রযুক্তি ও তালিকা সংশোধনের ফলে চলতি অর্থবছরেই বিগত বছরের তুলনায় সরকারের প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে উন্নত ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির অপচয় পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও টিসিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাণিজ্যিক অংশীদার এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন