সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
বান্দরবানের লামা উপজেলার পাহাড়ের চূড়ায় গাছের ডালপালার মাঝে তৈরি করা হয়েছে পাখির বাসার আদলে এক ব্যতিক্রমী ট্রি হাউস। প্রাকৃতিক নির্জনতায় ঘেরা এই অবকাশকেন্দ্রটির নাম রাখা হয়েছে ক্লাউডনেস্ট স্টেশন। পাহাড়ের সবুজ অরণ্য, শৈল ঝরনার শীতল প্রবাহ আর ভোরে ভাসমান সাদা মেঘের সমারোহ একে করে তুলেছে ভ্রমণপিপাসুদের নতুন আকর্ষণ।
চার বন্ধুর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পাহাড়ি ডেরায় রয়েছে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি। ক্লাউডনেস্টে পৌঁছাতে পর্যটকদের প্রথমে যেকোনো প্রান্ত থেকে কক্সবাজারের চকরিয়া বাজারে আসতে হবে। চকরিয়া পুরাতন বাস টার্মিনাল থেকে লামা যাওয়ার চাঁদের গাড়িতে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা এবং অটোরিকশায় ভাড়া ১০০ টাকা। চল্লিশ থেকে ৪৫ মিনিটের এই পাহাড়ি পথে মিরিঞ্জা ভ্যালির অপরূপ রূপ দেখতে দেখতে পৌঁছানো যায় লামা বাজারে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ পথে ভ্রমণকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের অন্তত দুই কপি ফটোকপি সঙ্গে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
লামা বাজার থেকে রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় জনপ্রতি ১২০ টাকা ভাড়ায় মোটরসাইকেলে করে আট থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছানো যায় শৈলে ঝিরির মাথায়। সেখান থেকে শুরু হয় ট্রেকিং। শীতল ঝিরিপথ ও গিরিখাতের ভেতর দিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টার হাঁটা পথ। রিসোর্টে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ সীমিত থাকায় পথিমধ্যে অবস্থিত প্রাকৃতিক শৈল ঝরনায় গোসল সেরে নেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঝিরিপথ পেরিয়ে প্রায় ১০ মিনিটের খাড়া পাহাড় বেয়ে উঠলেই পৌঁছানো যায় মূল চূড়ায়। পাহাড়ের চূড়ায় তৈরি মূল কাঠের ট্রি হাউসে ছয় থেকে আটজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো ট্রি হাউসের প্রতি রাতের ভাড়া তিন হাজার ৫০০ টাকা। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে একটি ছোট ফ্যান চলার ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে নিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। সম্প্রতি এর পাশে কাচঘেরা সাতজনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে, যার প্রতি রাতের ভাড়া সাড়ে চার হাজার টাকা। বাজেটে ভ্রমণকারীদের জন্য তাঁবুতে থাকার সুযোগও রয়েছে।
রিসোর্টে নিজস্ব কোনো রান্নাঘর না থাকায় লামা বাজারের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়। তিন বেলা খাবারের প্যাকেজ বাবদ জনপ্রতি খরচ হয় ৮০০ টাকা। এর মধ্যে দুপুরের খাবারে ভাত, ডাল ও মাংস বা মাছ, রাতে পরোটার সঙ্গে বারবিকিউ এবং সকালে ডিম-খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়। তবে বাজার থেকে পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাতে খাবার কিছুটা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে। ওয়াশরুমটি মূল ট্রি হাউসের সঙ্গে সংযুক্ত না হয়ে কিছুটা দূরে অবস্থিত হওয়ায় কিছুটা অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তবুও বিকেলের পাহাড়ি সূর্যাস্ত, মেঘের ওপর রংধনু এবং দূষণমুক্ত রাতের আকাশে কোটি কোটি তারার দৃশ্য এসব সীমাবদ্ধতা ভুলিয়ে দেয়। বিশেষ করে ভোরবেলা পাহাড়ের বুক চিরে ভেসে ওঠা তুলার মতো মেঘমালা পর্যটকদের সাজেকের মেঘের সমারোহ মনে করিয়ে দেয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন