শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
বিলাসবহুল দ্বীপ রিসোর্ট

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ ও বিলাসবহুল দ্বীপ রিসোর্টের বাস্তব অভিজ্ঞতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ ও বিলাসবহুল দ্বীপ রিসোর্টের বাস্তব অভিজ্ঞতা

পাহাড় ও হ্রদের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা রাঙ্গামাটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। পুরো দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই লেক ঘিরে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে একাধিক আধুনিক ও বিলাসবহুল দ্বীপ রিসোর্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব রিসোর্ট নিয়ে জমকালো প্রচারণা ও বিভিন্ন ভ্রমণকারীর ইতিবাচক পর্যালোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে কিছু অমিল এবং ভোগান্তির চিত্র সামনে আসছে।

বিজ্ঞাপনের চাকচিক্য বনাম মাঠের বাস্তবতা। ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নিয়মিত বাস সার্ভিসে জনপ্রতি ভাড়া পড়ছে ৭০০ টাকা। সকাল সাতটার মধ্যেই বাসগুলো জেলা শহরের টার্মিনালে পৌঁছায়। বাস থেকে নেমে স্থানীয় রেস্তোরাঁয় নাশতা করতে জনপ্রতি গড়ে খরচ হয় প্রায় ১০০ টাকা। তবে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, পৌঁছানোর পরপরই সরাসরি কোনো লেক রিসোর্টে যাওয়া সমীচীন নয়। কাপ্তাই লেকের প্রায় সব রিসোর্টের চেক-ইন সময় বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। ফলে সকালে পৌঁছে সরাসরি গেলে রিসোর্টের অপেক্ষাগারে তিন থেকে চার ঘণ্টা অলস ও বিরক্তিকর সময় কাটাতে হয়।

এই মধ্যবর্তী সময়টি রাঙ্গামাটি শহরের আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে কাটিয়ে দেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। রিজার্ভ বাজার থেকে স্থানীয় বাহনে জনপ্রতি মাত্র ৩০ টাকা ভাড়ায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় পলওয়েল পার্কে। এই বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশ টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। পার্কটিতে লেকের মনোরম দৃশ্যের পাশাপাশি ঝুলন্ত সাঁকো, শিশুদের খেলার ব্যবস্থা, প্যাডেল বোট ও স্পিডবোটের সুবিধা রয়েছে। পলওয়েল পার্ক থেকে মাত্র ১০ মিনিট দূরত্বে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ। এই সেতুতে প্রবেশের নির্ধারিত ফি জনপ্রতি ৩০ টাকা। কাপ্তাই লেক ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টায় সহজেই এ দুটি স্থান ঘুরে নেওয়া যায়।

শহরের স্পটগুলো ঘুরে দুপুর নাগাদ কাপ্তাই লেকের যেকোনো রিসোর্টে যাওয়া সুবিধাজনক। শহরের রাজবাড়ি ঘাট থেকে ট্রলার বা বোটে করে ১০ থেকে ১২ মিনিটেই লেকের মাঝখানের দ্বীপ রিসোর্টগুলোতে পৌঁছানো যায়। কাপ্তাই লেকের একটি বেসরকারি দ্বীপে অবস্থিত ওয়াইল্ডউড আইল্যান্ড রিসোর্টে সাধারণ সময়ে ইনফিনিটি পুল ভিলার এক রাতের ভাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকা। বিশেষ ছাড়ে এই কক্ষগুলো ১২ হাজার টাকায় বুকিং মিললেও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অতিরিক্ত মূল্যের অভিযোগ উঠছে।

কক্ষের ভেতরের আসবাবপত্রের মান, বিশেষ করে সাধারণ মানের বিছানা এবং দীর্ঘ অপেক্ষা পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। তবে ব্যক্তিগত সুইমিং পুলের আধুনিক সজ্জা, লেকের নৈসর্গিক রূপ এবং সান্ধ্যকালীন কায়াকিংয়ের সুযোগ ভ্রমণপিপাসুদের কিছুটা আনন্দ দেয়।

দ্বীপের ভেতরের রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম শহরের স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে শতকরা ২০ থেকে ৩০ ভাগ বেশি। দুপুরের খাবারের তালিকায় ব্যাম্বু চিকেন ও বিভিন্ন পদ পরিবেশন করা হলেও স্বাদের দিক থেকে তা সাধারণ মাংস রান্নার মতোই মনে হয়। রাতের খাবারে কালা ভুনা ও অন্যান্য পদের ব্যবস্থা থাকে এবং সাথে থাকে লেকের পাড়ে খোলা আকাশের নিচে লাইভ সংগীত উপভোগের আয়োজন। সকালে কমপ্লিমেন্টারি ব্যুফে প্রাতরাশে পরোটা, ডিম, সবজি, ডাল ও ফলের জুস পরিবেশন শেষে সকাল ১০টায় নিয়মিত চেক-আউটের নিয়ম মানা হয়। ভ্রমণ সংশ্লিষ্টদের মতে, রাঙ্গামাটিতে বিলাসবহুল দ্বীপের চড়া মূল্যের চেয়ে লেকের অন্যান্য দ্বীপে সাধারণ রিসোর্টগুলোতে তুলনামূলক কম খরচে কাপ্তাইয়ের নিসর্গ উপভোগ করা বেশি সাশ্রয়ী।