শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জামায়াতের হঠকারিতায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ তৈরি: রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম

জামায়াতের হঠকারিতায় আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফেরার পথ তৈরি: রাশেদ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক হঠকারিতার কারণেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খান বলেন, জামায়াত বর্তমান সরকারকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করছে না। বরং তারা পদে পদে জেনে বা না জেনে হঠকারিতা করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ যদি জামায়াতের এই হঠকারিতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসে, তবে তার জন্য সরাসরি জামায়াত এবং এনসিপি দায়ী থাকবে। দেশের চলমান জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, সরকার সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে এই সংকট সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান এই জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, ফখরুদ্দীন ও মঈন উদ্দীনের দুই বছরের সংকট ও অব্যবস্থাপনা, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৬ বছরের সংকট ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে চালানো লুটপাট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সমস্যা ও অব্যবস্থাপনার জের হিসেবে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট বর্তমান সরকারের ওপর এসে পড়েছে। 

দীর্ঘ সময়ের এই বহুমুখী সংকট রাতারাতি সমাধান করা একেবারেই সম্ভব নয়। ঢাকা থেকে রংপুরে জামায়াতের ঘোষিত লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মসূচি নিয়ে রংপুরের সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের আগ্রহ নেই। লংমার্চের কারণে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের অপচয় হচ্ছে এবং এর ফলে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি মীমাংসিত রাজনৈতিক বিষয়। দীর্ঘ নয় মাস ধরে আলোচনার পর এই সনদে স্বাক্ষর হয়েছে এবং জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি ধারা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে লংমার্চ করার যৌক্তিকতা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাশেদ খান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমজিয়াজ ইয়ামিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।