সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে তিন লাখ কেজি বা ৩৫০ টনের বেশি ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করেছে উনিশটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। তবে দেশের বিভিন্ন খুচরা বাজারে আমদানিকৃত এসব মাছ দেশি ইলিশ বলেই বিক্রি করার অভিযোগ উঠছে।
আমদানির এই ধারা এখনো থামেনি। আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং বা সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরও ইলিশের চালান বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে আসা এই ইলিশের বেশিরভাগই ধরা পড়েছে ভারতের গুজরাট উপকূলে। সাধারণত দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে প্রতি বছর বিভিন্ন আলোচনা হলেও এবার পরিস্থিতি উল্টো রূপ নিয়েছে। পদ্মার ইলিশ ভারতে যাওয়ার বদলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বিপুল পরিমাণ গুজরাতি ইলিশ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। তাঁর দাবি, রপ্তানি হওয়া এসব মাছের প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা।
আমদানির পেছনে ব্যবসায়িক হিসাবই মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় অভ্যন্তরীণ বাজারে ইলিশের যে অস্বাভাবিক চড়া দর রয়েছে, তার তুলনায় ভারত থেকে কেনা ইলিশের খরচ কয়েকগুণ কম পড়ে। এই বিশাল মূল্য পার্থক্যের কারণেই আমদানিকারকেরা ভারত থেকে মাছ আনতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।
আমদানির প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানান, মৎস্য অধিদপ্তর থেকে নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক নিয়ম ও অনুমতি মেনেই কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে, তবে ঠিক কী সুনির্দিষ্ট কারণে এই আমদানি করা হচ্ছে সে বিষয়ে স্থানীয় দপ্তর অবগত নয়। এদিকে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক জানিয়েছেন, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট আবেদনের ভিত্তিতে তারা সীমিত পরিসরে কিছু প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন