শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
মেঘনা মোহনার আড়ত

শত শত মণ ইলিশের পাইকারি বাণিজ্য: সরগরম চেয়ারম্যান ঘাট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

শত শত মণ ইলিশের পাইকারি বাণিজ্য: সরগরম চেয়ারম্যান ঘাট

ছবি :সংগ্রহীত

মেঘনা নদীর বুক চিরে প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই মাছবোঝাই ট্রলার এসে নোঙর করে নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়ার প্রবেশমুখ চেয়ারম্যান ঘাটে। বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও সংলগ্ন নদী থেকে শত শত মণ রূপালি ইলিশ নিয়ে তীরে ফেরেন জেলেরা। ঘাটজুড়ে শুরু হয় মাছ ওঠানো, আকার অনুযায়ী বাছাই, বরফজাতকরণ এবং হাঁকডাক দিয়ে প্রকাশ্য নিলামের ব্যস্ততা।

উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে রূপালি ইলিশের চেনা ঘ্রাণ। জেলা শহর মাইজদী ও সোনাপুর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই নৌঘাটটি এখন উপকূলীয় মৎস্য বাণিজ্যের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। নদী ও সাগরে কয়েক দিন কাটিয়ে ট্রলারভর্তি মাছ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভেড়ার পরপরই খালাসিরা বাঁশের খাঁচায় করে তা দ্রুত আড়তে পৌঁছে দেন। আকারভেদে ইলিশের মণ বিক্রি হয় উন্মুক্ত দরদামের মাধ্যমে। আড়তগুলোতে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের বড় ইলিশ পৃথক স্তূপে সাজিয়ে পাইকারদের কাছে নিলামে তোলা হয়।

আড়তের হাঁকডাকে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও দম ফেলার ফুরসত থাকে না ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। চেয়ারম্যান ঘাটে মাছের বেচাকেনা শেষ হতেই শুরু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা পাঠানোর তোড়জোড়। ট্রলার থেকে নামানো তাজা মাছ বড় বড় কাঠের বাক্সে পরিমাণমতো বরফ দিয়ে প্যাকেট করা হয়। এরপর শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা ত্রিপলঢাকা ট্রাকে করে তা দ্রুত রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা শহরের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘাট সংলগ্ন বরফকলগুলোতেও রাতদিন চলে বরফ ভাঙার বিরামহীন কর্মযজ্ঞ।

মৌসুমের এ সময়ে সাধারণ ক্রেতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরাও কম দামে তাজা মাছ কিনতে ভিড় করেন। ঘাটের পাশে গড়ে ওঠা খাবার হোটেলগুলোতে সদ্য কেনা তাজা ইলিশ ভেজে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নৌযাত্রার আনুষঙ্গিক ব্যয় বাড়ায় মাছের দাম আগের চেয়ে কিছুটা চড়া বলে জানান জেলেরা। অনুকূল আবহাওয়ায় নদীর ঝাঁকে নিয়মিত মাছ ধরা পড়লে উপকূলের লাখো মৎস্যজীবীর দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা