শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরআন সংবিধান নয় তবে এর আলোকে হতে পারে: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

কোরআন সংবিধান নয় তবে এর আলোকে হতে পারে: আইনমন্ত্রী

পবিত্র কোরআনের আলোকে রাষ্ট্রীয় সংবিধান তৈরি করা যেতে পারে, তবে সরাসরি কোরআনকে সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিক্স শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।

একসময় সমাজে প্রচলিত কোরআন আমাদের সংবিধান স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন যে সংবিধান সময়ের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য হলেও কোনো ঐশী ধর্মীয় গ্রন্থের মূল বাণী পরিবর্তন করা যায় না। আবদুর রাজ্জাকের এই প্রকাশনাটি শুধু সাধারণ সাহিত্য বা গবেষণামূলক গ্রন্থ নয়, বরং এটি একজন মানুষের গভীর জীবনদর্শন, চিন্তা, নিজস্ব চেতনা এবং সমাজকে পর্যবেক্ষণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার দলিল।

বইটিতে প্রতিফলিত রাষ্ট্র ও সমাজভাবনা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ওপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে কখনো কার্যকর ইসলামিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সমাজের ভেতর থেকে ইসলামিক মূল্যবোধের চর্চা গড়ে তুলে একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করাই ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার একমাত্র সঠিক ও টেকসই পথ। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক চিন্তা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সামনে অগ্রসর হতে হলে পুরো সমাজব্যবস্থাকে সমসাময়িক পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তনের জোরালো আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামনে এনেছে।

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সেই সময়কার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নের প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজ্জাকের অবস্থান ও জাতির সামনে রাখা বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবদুর রাজ্জাকের সেই সুস্পষ্ট অবস্থান আরও আগে প্রকাশ্যে এলে একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে সমাজে থাকা বহু অমীমাংসিত প্রশ্নের অবসান আগেই ঘটতে পারত।

সাংগঠনিক ভূমিকার আলোচনায় মো. আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন, আবদুর রাজ্জাক দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁর ব্যক্তিগত কর্ম, চিন্তা ও আদর্শিক গভীরতার কারণে তিনি নিজস্ব একটি সর্বজনীন অবস্থান তৈরি করতে পেরেছিলেন। সমাজে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা ছিল, তা দলীয় সাংগঠনিক পদমর্যাদার চেয়েও অনেক বড় মাপের। 

স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি মানবাধিকারের বিষয়টিকে কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে ছিলেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তুলে ধরতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক মানবাধিকার ইস্যুকে প্রচারণার মূল মাধ্যম হিসেবে উৎসাহিত করেছিলেন।