শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
পুলিশ কর্মকর্তা আটক

ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম

ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ পুলিশ কর্মকর্তা আটক

রাজশাহীর নাদের হাজির মোড় এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ফ্ল্যাটের দরজা খুলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকাল সাতটার দিকে নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটের সামনে যান আন্নি আক্তার নামের এক নারী। তিনি নিজেকে মাহবুব আলমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। ফ্ল্যাটের দরজায় দীর্ঘ সময় ধরে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর নয় নয় নয়-এ ফোন করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ভেতরে পুলিশ কর্মকর্তা থাকার বিষয়টি জেনে দরজা ভাঙতে অনীহা দেখায় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ চেষ্টার পর ফ্ল্যাটের দরজা খুলে দেন। এরপর পুলিশ মাহবুব আলম ও তার সাথে থাকা নারীকে চন্দ্রিমা থানায় নিয়ে যায় এবং দুপুরে তাদের পৃথক দুটি কক্ষে রাখা হয়। নাদের হাজির মোড়ের ওই ফ্ল্যাটটি মাহবুব আলমের কথিত পালিত মেয়ের নামে ভাড়া নেওয়া ছিল, যেখানে ওই মেয়ে ও তার স্বামী বসবাস করতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেখানে মাহবুব আলম ও ওই নারী অবস্থান করছিলেন।

আটকের পর মাহবুব আলম দাবি করেন ওই নারী তার স্ত্রী, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো বৈধ কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে দরজার বাইরে অবস্থান নেওয়া আন্নি আক্তার নিজেকে মাহবুব আলমের ষষ্ঠ স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। মাহবুবের ভাষ্য অনুযায়ী চার দিন আগে তিনি আন্নিকে তালাক দিয়েছেন, তবে আন্নি দাবি করেন তিনি তালাকের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র হাতে পাননি।

নওগাঁর বাসিন্দা এবং নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার অভিযোগ করেন, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন মাহবুব বিভিন্ন কর্মস্থলে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর আগে রাজশাহীর পদ্মা আবাসিক এলাকার ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটেও তিনি মাহবুবের সঙ্গে ওই নারীকে দেখেছিলেন বলে জানান। বৃহস্পতিবার রাতে মাহবুবের অবস্থানের তথ্য পেয়ে তিনি সকালে সেখানে যান এবং ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জরুরি সেবার সহায়তা নেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং মাহবুবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মাহবুব আলম ২০২৪ সালে রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা রুজু হয় এবং তাকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।

সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোস্তাক আহমেদ জানান, মাহবুব আলম কোনো ধরনের ছুটি বা পূর্বানুমতি না নিয়েই রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করা সুস্পষ্ট অপরাধ। বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় থানার পরিদর্শক মাহমুদ সিদ্দিকী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার পর এ বিষয়ে আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।